
প্রতিনিধি 26 November 2025 , 8:21:44 প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড-এনসিটিবি, মাধ্যমিকের বইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন-পরিমার্জন করেছে। নতুন শিক্ষাবর্ষে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত পুস্তকগুলোতে নানা বিতর্কিত বিষয় বাদ পড়েছে। যুক্ত হয়েছে জুলাই বিপ্লব, বহুল বিতর্কিত শাসন শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল থেকে শুরু করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পলায়নের ঘটনা।
একই সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু থেকে এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরশাসন এবং পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার শাসনের কথাও স্থান পেয়েছে। এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবার পাঠ্যবইয়ে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে গত বছরের ছাত্র-জনতার জুলাই গণবিপ্লবের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে স্থান পেয়েছে পতিত স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং বৈষম্যের চিত্র।
পাঠ্যবইয়ে স্থান পেয়েছে ১৯৭৫ সালের শেখ মুজিব সরকারের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে একদলীয় শাসনব্যবস্থা বাকশাল প্রতিষ্ঠা; ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান।

জানা গেছে, ২০২৬ সালের ৬ষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ের ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থান’ নামে নতুন অধ্যায়ে এসব বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য সব শ্রেণির বইয়ের কনটেন্টে ছোটখাটো পরিবর্তন হচ্ছে।
এদিকে, নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইয়ের ‘স্বাধীন বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থান’ অধ্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন; পরে ক্রমাগত কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা, বিরোধী দলমতের মানুষের ওপর দমন-নিপীড়ন, দুর্নীতির প্রসার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করার মাধ্যমে দলীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় হাসিনার বেপরোয়া হয়ে ওঠা; ২০১১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সংকটের শুরুসহ বিভিন্ন বিষয়। এভাবে ২০১৪ সালের ভোটারবিহীন নির্বাচন, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগের রাতে ব্যালট বাক্স পূর্ণ করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকার আওয়ামী রোডম্যাপও পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হয়েছে।
অপরদিকে, হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের অর্থনৈতিক ফলাফল ছিল দীর্ঘমেয়াদে ধ্বংসাত্মক। কমিশনের প্রতিবেদনের বরাতে দুর্নীতির মাধ্যমে বছরে ১৬ বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ বিদেশে পাচার, একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে একটি ‘চোরতন্ত্র’ কায়েম, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সব আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল ও ভঙ্গুর করে দেয়ার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।