
প্রতিনিধি 22 April 2026 , 5:10:28 প্রিন্ট সংস্করণ

ভ্যাপসা গরমে সাধারণ অস্বস্তির পাশাপাশি দেখা দিতে পারে হিট স্ট্রোকসহ নানা শারীরিক জটিলতা। তবে সচেতন থাকলে এসব ঝুঁকি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব। চিকিৎসাবিজ্ঞানে হিট স্ট্রোককে একটি গুরুতর ও জরুরি অবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে এটি মস্তিষ্ক, হৃদপিণ্ড, কিডনি ও অন্যান্য অঙ্গের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। এমনকি রোগী কোমায় চলে যেতে পারে বা মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ
হিট স্ট্রোক হলে সাধারণত নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়—
শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হয়ে যাওয়া, সাধারণত ঘাম না হওয়া,

১) মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
২) কথা জড়িয়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি বা অস্বাভাবিক আচরণ
৩) ত্বক লাল হয়ে যাওয়া ও অতিরিক্ত গরম অনুভব হওয়া
৪) শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হওয়া এবং হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
৫) তীব্র মাথাব্যথা
৬) প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
৭) খিঁচুনি এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলা
৮) হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে করণীয়
হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি—
১) রোগীকে দ্রুত ছায়াযুক্ত ও ঠাণ্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে
২) শরীরের অতিরিক্ত পোশাক খুলে দিতে হবে
৩) ঠাণ্ডা পানি বা বরফ মিশ্রিত পানি দিয়ে শরীর মুছতে হবে
৪) বিশেষ করে বগল, কুঁচকি ও ঘাড়ে ভেজা কাপড় দিয়ে শীতল করার চেষ্টা করতে হবে
৫) রোগীকে শুইয়ে পা সামান্য উঁচু রাখা যেতে পারে
৬) জ্ঞান থাকলে পানি, ডাবের পানি, খাবার স্যালাইন বা শরবত খাওয়াতে হবে
৭) জ্ঞান হারালে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে; ঘরে চিকিৎসা যথেষ্ট নয়
প্রতিরোধে করণীয়
১) দিনের সবচেয়ে গরম সময় (দুপুর) এড়িয়ে চলা
২) বাইরে গেলে ছাতা, টুপি ও হালকা রঙের পোশাক ব্যবহার করা
৩) পর্যাপ্ত পানি, ডাবের পানি ও স্যালাইন পান করা
৪) ভারী শারীরিক কাজ ও ব্যায়াম রোদে না করা
৫) চা, কফি ও ধূমপান এড়িয়ে চলা
৬) শরীর ঠাণ্ডা রাখে এমন খাবার গ্রহণ করা