
প্রতিনিধি 12 April 2026 , 12:24:06 প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়- এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তার প্রতীক। রোববার (১২ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এই দরবারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী-এর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। দরবারে তিনি সামরিক বাহিনীর পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তাদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের অধীনে পরিচালিত হতে পারে না। এটি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ এবং জনগণের আস্থা ও নিরাপত্তার ভিত্তি। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর মূল দায়িত্ব হচ্ছে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের জানমাল রক্ষা করা।
তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকায়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করতে হবে। বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি আধুনিক ও প্রস্তুত সামরিক বাহিনী গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের ব্যক্তিগত প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব এখানে স্থান পেতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করতে হবে। আন্তঃবাহিনী সহযোগিতা ছাড়া আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।
দরবারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আস্থা রাখে। সেই আস্থা বজায় রাখা এবং আরও শক্তিশালী করাই বাহিনীর মূল দায়িত্ব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনী আরও বেশি দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন করবে।
তিনি বলেন, পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে শুধু প্রচলিত যুদ্ধ নয়, সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য প্রযুক্তি এবং আধুনিক প্রতিরক্ষা কৌশলেও সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। এজন্য প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কর্মকর্তারা সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন। তারা বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্যের শেষে বলেন, সশস্ত্র বাহিনী রাষ্ট্রের একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে, যা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং পুরো জাতির।