
প্রতিনিধি 24 January 2026 , 7:39:29 প্রিন্ট সংস্করণ

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের এবং এ দায়িত্বে, কমিশন নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। সেই সঙ্গে সরকারকে শতভাগ নিরপেক্ষতা বজায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিতকরণে অংশীজনের ভূমিকা শীর্ষক এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তৃতা করেন সুজনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার। আর লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন, সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।
বদিউল আলম তার বক্তব্যে বলেন, ‘গণতন্ত্র মানে সবার সমান সুযোগ, সবার প্রতি সহিষ্ণু আচরণ। আমরা লক্ষ্য করছি বিভিন্ন পক্ষ-অন্য পক্ষকে সেই সুযোগটা দিতে চাচ্ছে না। অনেক জায়গায় আমরা লক্ষ্য করেছি যে, অমুক দল, অমুক আসলে আমি আসবো না, অমুক প্রার্থী থাকলে আমি থাকবো না। এটা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন’।

তিনি বলেন, ‘আরেকটা হলো টাকার খেলা, এই টাকার খেলা, একটা কথা আছে টাকা দিয়ে ভোট কেনা যায় এটা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা নির্বাচন কমিশন সংস্কারের পক্ষ থেকে অনেকগুলো সুপারিশ করেছিলাম। আমাদের একটা প্রস্তাব ছিল যে, নির্বাচন কমিশন যেন প্রতিনিয়ত প্রার্থীদের ব্যয় পর্যবেক্ষণ করে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন উপেক্ষা করছে আমাদের এ প্রস্তাব’।
‘এই যে টাকার খেলা নির্বাচনকে প্রভাবিত করছে এটা অব্যাহত থাকায় অতীতের অতীতের ব্যবস্থাই যেন অব্যাহত রেখেছে সেটা আমরা লক্ষ্য করছি। বিশেষত ঋণ খেলাপির ক্ষেত্রে এবং দ্বৈত নাগরিকের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যে নমনীয়তা প্রদর্শন করেছে সেটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, ‘নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। এ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি নিরপেক্ষ না থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপি এবং দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে’।
‘প্রার্থীদের বার্ষিক আয় ও সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য দেখে ‘অনেক প্রার্থী তথ্য গোপন করেছেন’ জনমনে এমন ধারণা জোরালো। এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রশ্ন, নির্বাচন কমিশন কি বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে হলফনামার তথ্য যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই করেছে? প্রভাবশালী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে কমিশন কি নমনীয় ছিল? এ ধারণাগুলোর মধ্যে সামান্যতম সত্যতা থাকলেও তা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে’।