• সর্বশেষ সংবাদ স্ক্রল

    দীর্ঘ ৩০ বছর পর অন্ধকারের অবসান, রাহেলা বেগমের নতুন পথচলা!

      প্রতিনিধি 17 January 2026 , 1:27:07 প্রিন্ট সংস্করণ

    ছবি-সংগৃহীত।
    ছবি-সংগৃহীত।
    বিজ্ঞাপন
    Main Banner Ads For Captains TV

    কারাগারের লোহার ফটকটি যখন ক্যাঁচক্যাঁচ শব্দে খুলে গেল, তখন বাইরের উজ্জ্বল সূর্যের আলোয় চোখ দুটি মেলতে পারছিলেন না ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা রাহেলা বেগম। দীর্ঘ ৩০টি বছর! এই ৩০ বছরে বাইরের পৃথিবীটা কতটা বদলে গেছে, তা তাঁর জানা নেই। জীবনের সোনালী সময়গুলো যেখানে মাটির দেয়াল আর লোহার শিকের আড়ালে ধুঁকে ধুঁকে শেষ হয়েছে, সেখানে আজ মুক্তির স্বাদ যেন তাঁর কাছে এক অদ্ভুত ঘোর।

    বিজ্ঞাপন

    গত রবিবার ১১ জানুয়ারি, ২০২৬ ইং নওগাঁ জেলা কারাগারের ফটকের সামনে দাঁড়িয়ে রাহেলা বেগমের দুই চোখের কোণ বেয়ে গড়িয়ে পড়া প্রতিটি অশ্রুবিন্দু যেন ৩০ বছরের এক একটি না বলা যন্ত্রণার মহাকাব্য।
    নওগাঁর আত্রাই উপজেলার দীঘা গ্রামের বাসিন্দা রাহেলা বেগম। এক হত্যা মামলায় যখন তিনি কারাগারে নীত হয়েছিলেন, তখন তিনি ছিলেন ভরা যৌবনের এক নারী। আজ যখন ফিরছেন, তখন তাঁর শরীরে বার্ধক্যের ছাপ, চামড়া কুঁচকে গেছে, লাঠিতে ভর দিয়ে চলতে হয়। দীর্ঘ ৩০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড শেষে তাঁর মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৫ হাজার ৫০০ টাকা। আদালতের দেওয়া সেই জরিমানার টাকা পরিশোধ করতে না পারায় আরও এক বছর এক মাস অতিরিক্ত জেল খাটার প্রহর গুনছিলেন এই অসহায় বৃদ্ধা।
    রাহেলা বেগমের এই করুন দশা দেখে এগিয়ে এলেন নওগাঁ জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। মানবিকতার অনন্য নজির গড়ে তাঁরা নিজেরাই এই বৃদ্ধার জরিমানার টাকা পরিশোধের ব্যবস্থা করেন। আর সেই মহানুভবতায় আজ জীবনের শেষ বেলায় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেন রাহেলা।

    কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় রাহেলা বেগমের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে আসছিল। অঝোরে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছিলেন, “বাপু, ভাবছিলাম জেলের ভিতরেই আমার মরণ হবে। পরিবারের মানুষগুলোর মুখ কি আর দেখতে পাব? এই দুনিয়াটা কেমন আছে তাও তো জানতাম না। আজ যারা আমাকে এই বয়সে মুক্তির সুযোগ করে দিলেন, আল্লাহ তাদের ভালো করুক। জীবনের শেষ কটা দিন অন্তত আপন মানুষের ছায়ায় মরতে পারব।”
    মুক্তির পর তাঁর সেই কাঁপাকাঁপা হাতে যখন পরিবারের স্বজনদের ছুঁয়ে দেখছিলেন, তখন উপস্থিত অনেকের চোখেই জল নেমে আসে। যে মানুষটি দীর্ঘ তিন দশক ধরে পৃথিবীর আনন্দ-বেদনা থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন, তাঁর কাছে এই মুক্তি যেন এক পুনর্জন্ম।
    নওগাঁ জেলা কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, এটি কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং একজন অসহায় ও বৃদ্ধ কয়েদির প্রতি মানবিক মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ। বিশেষ করে বয়স্ক কয়েদিদের প্রতি এমন সহমর্মিতা সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে।
    রাহেলা বেগম বাড়ি ফিরছেন। হয়তো সেই চেনা ঘরটি আর নেই, নেই সেই চেনা মানুষগুলোও। তবুও ৩০ বছর পর ঘরে ফেরা নওগাঁবাসীর মনে এক গভীর আবেগের জন্ম দিয়েছে। অন্ধকার থেকে আলোয় ফেরা এই পথচলা যেন সব হারানো মানুষের শেষ আশার আলো হয়ে জ্বলছে

    আরও খবর

    Sponsered content

    বিজ্ঞাপন
    সর্বশেষ সংবাদ
    9:48 PM ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে পদক ও বইমেলা উদ্বোধন এবং বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করবেন প্রধানমন্ত্রী 9:32 PM ঈদযাত্রায় অনলাইনে ট্রেনের টিকিট ৩ মার্চ থেকে 9:26 PM ইংরেজি নিয়ে মেসির আক্ষেপ 9:03 PM পিলখানা হত্যাকাণ্ড সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ করার অপপ্রয়াস: প্রধানমন্ত্রী 8:56 PM ব্যাংকিং খাত নিয়ে কী পরিকল্পনা, জানালেন নতুন গভর্নর 8:50 PM গভর্নর পদে পরিবর্তন নিয়ে যা বললেন অর্থমন্ত্রী 8:32 PM রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবি নাহিদ ইসলামের 6:17 PM দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শনে ডিএনসিসি প্রশাসক 6:05 PM ফোন করে জামায়াত আমীরের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান 5:57 PM প্রধানমন্ত্রীর ‘গ্রিন সিটি-ক্লিন সিটি’ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের নির্দেশনা ডিএসসিসি প্রশাসকের