
প্রতিনিধি 29 December 2025 , 12:10:43 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি হিনো মেলফা বাসকে বিশেষভাবে মডিফাই করে বুলেটপ্রুফ যানবাহনে রূপান্তর করেছে। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিবেচনায় বাসটির বিভিন্ন অংশে আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তি সংযোজন করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। পরে তিনি বিমানবন্দর থেকে এই বিশেষ নিরাপত্তাসম্পন্ন বাসে উঠে রাজধানীর ৩০০ ফিট (৩৩০ ফিট) এক্সপ্রেসওয়ের দিকে যাত্রা করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটির সামনের ও পাশের কাচ মাল্টি-লেয়ার বুলেটপ্রুফ গ্লাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাসের বডিতে বিশেষ ধরনের স্টিল প্লেট সংযোজন করে সেটিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় আন্ডারবডিও অতিরিক্তভাবে সুরক্ষিত করা হয়েছে।

বিশেষ মডিফিকেশনের ফলে গাড়িটির ওজন বৃদ্ধি পাওয়ায় সাসপেনশন, ব্রেকিং সিস্টেম ও স্টিয়ারিং ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে যাত্রা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় থাকে। অভিজ্ঞ চালক ও নিরাপত্তা টিম সার্বক্ষণিকভাবে বাসটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

জাপানের খ্যাতনামা যানবাহন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিনো মোটরস লিমিটেড নির্মিত হিনো মেলফা বাস বর্তমানে দেশটির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও একটি জনপ্রিয় মাঝারি আকারের যাত্রীবাহী বাস হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। পর্যটন, কর্পোরেট শাটল এবং আঞ্চলিক যাত্রী পরিবহনে এই বাস ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
হিনো মেলফা বাস প্রথম বাজারে আসে ১৯৯৮ সালে। এটি মূলত ছোট ও মাঝারি রুটে চলাচলের উপযোগী করে তৈরি করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে বাসটির ইঞ্জিন কর্মক্ষমতা, যাত্রী আরাম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে।
এই বাস সাধারণত মেলফা-৭ ও মেলফা-৯ এই দুইটি প্রধান মডেলে পাওয়া যায়। মেলফা-৭ প্রায় ৭ মিটার দৈর্ঘ্যের এবং ছোট রুটে চলাচলের জন্য উপযোগী। অন্যদিকে মেলফা-৯ প্রায় ৯ মিটার দৈর্ঘ্যের, যা তুলনামূলক বেশি যাত্রী বহনে সক্ষম এবং পর্যটন খাতে বেশি ব্যবহৃত হয়।


কারিগরি দিক থেকে হিনো মেলফা বাস-এ ব্যবহৃত হয় শক্তিশালী ডিজেল ইঞ্জিন, যা জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং দীর্ঘস্থায়ী। এতে ম্যানুয়াল ও অটোমেটিক-উভয় ধরনের গিয়ার ব্যবস্থার সুবিধা রয়েছে। যাত্রী ধারণক্ষমতা মডেলভেদে প্রায় ২০ থেকে ৪৫ জন পর্যন্ত হয়ে থাকে।
যাত্রীদের আরামের জন্য এই বাসে রয়েছে প্রশস্ত ও আরামদায়ক আসন, কার্যকর এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা এবং বড় জানালা। নিরাপত্তার জন্য শক্ত বডি স্ট্রাকচার, উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম এবং কিছু মডেলে আধুনিক সহায়ক প্রযুক্তিও সংযোজন করা হয়েছে।
জাপানের বাইরে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হিনো মেলফা বাস আমদানি করে পরিবহন খাতে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, সহজ খুচরা যন্ত্রাংশ প্রাপ্যতা এবং দীর্ঘস্থায়ী ইঞ্জিনের কারণে এই বাস উন্নয়নশীল দেশগুলোতে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
যাত্রীদের আরামের জন্য এই বাসে রয়েছে প্রশস্ত ও আরামদায়ক আসন, কার্যকর এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা এবং বড় জানালা। নিরাপত্তার জন্য শক্ত বডি স্ট্রাকচার, উন্নত ব্রেকিং সিস্টেম এবং কিছু মডেলে আধুনিক সহায়ক প্রযুক্তিও সংযোজন করা হয়েছে।

জাপানের বিশ্বখ্যাত নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিনো মোটরস-এর তৈরি হিনো মেলফা বাস এমনিতেই এর শক্তিশালী ইঞ্জিন, আরামদায়ক সিটিং ব্যবস্থা ও দীর্ঘপথে স্থিতিশীল চলাচলের জন্য পরিচিত। সর্বশেষ এই নিরাপত্তা মডিফিকেশনের মাধ্যমে বাসটি একটি পূর্ণাঙ্গ ভিআইপি হাই-সিকিউরিটি পরিবহন বাহনে পরিণত হয়েছে।
এদিকে বাসটির বাহ্যিক রঙেও আনা হয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন। আগের রঙ পরিবর্তন করে এটিকে লাল ও সবুজ রঙে রাঙানো হয়েছে, যা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি আবেগ ও উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।

যাত্রাপথে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তারা রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নিয়ে দলীয় নেতাকে স্বাগত জানান। নিরাপত্তা রক্ষায় সার্বিক ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাস শুধু একটি যানবাহন নয়; বরং এটি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপির প্রস্তুতি, নিরাপত্তা সচেতনতা ও সাংগঠনিক বার্তার প্রতিফলন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।