
প্রতিনিধি 6 December 2025 , 11:34:55 প্রিন্ট সংস্করণ

৬ ডিসেম্বর, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক স্মরণীয় দিন-স্বৈরাচার পতন দিবস। ১৯৯০ সালের এই দিনে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সামরিক শাসক এইচ এম এরশাদ পদত্যাগ করে রাষ্ট্রক্ষমতা অস্থায়ী সরকারের কাছে হস্তান্তর করেন। এর মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে দীর্ঘ ৯ বছরের সামরিক শাসনের, আর দেশ ফিরে আসে গণতান্ত্রিক ধারায়।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ এরশাদ সামরিক আইন জারি করে ক্ষমতা দখল করেন। দীর্ঘ সময়জুড়ে তার শাসনের বিরুদ্ধে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ বিভিন্ন বামপন্থি রাজনৈতিক শক্তি একত্রে আন্দোলন গড়ে তোলে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার সেই আন্দোলনে ডা. শামসুল আলম খান মিলন, নূর হোসেনসহ অসংখ্য মানুষ আত্মত্যাগ করেন। আন্দোলন যত তীব্র হতে থাকে, ততই শক্তিশালী হয় স্বৈরাচারবিরোধী গণমানুষের ঐক্য।
১৯৯০ সালের ২১ নভেম্বর পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়। তখন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৫-দল, বিএনপির নেতৃত্বে সাত-দল এবং ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদের নেতৃত্বে পাঁচটি বামদল যৌথভাবে একটি রাজনৈতিক রূপরেখা ঘোষণা করে। তিন জোটের বাইরে থাকলেও জামায়াতে ইসলামী এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখে। তিন জোটের রাজনৈতিক রূপরেখা ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, কার্যকর সংসদ, মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রূপরেখার অনেক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য আজও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ছাত্রসমাজ, পেশাজীবী, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মিলিত প্রতিবাদ এমন তীব্র রূপ নেয় যে, এরশাদকে অবশেষে পদত্যাগ করতে বাধ্য হতে হয়। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করে।
এই দিবসটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ভিন্ন নামে পালন করে থাকে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিনটিকে ‘স্বৈরাচার পতন ও গণতন্ত্র মুক্তি দিবস’ হিসেবে পালন করে। এ উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাণী দেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ নয় বছর ধরে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দৃঢ় প্রত্যয় ও আপসহীন নেতৃত্ব দিয়ে স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন পরিচালনা করেছেন। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠা দুর্বার গণআন্দোলনই ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর গণতন্ত্রকে মুক্ত করে।
তারেক রহমান আরও বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাহসী নেতৃত্বে ছাত্র-জনতার মিলিত প্রতিরোধ গণতন্ত্রকে নতুন করে উজ্জীবিত করেছে। গণতন্ত্রের সেই পুনর্জাগরণ ছিল জাতির ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।’
স্বৈরাচার পতন দিবস উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রাজধানীসহ সারা দেশে আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নাগরিক অধিকার, আইনের শাসন ও কার্যকর রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
৯০-এর গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ বাঁক। স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম দেশের গণতান্ত্রিক চর্চায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল-যার স্মারক আজকের এই ৬ ডিসেম্বর।