
প্রতিনিধি 30 November 2025 , 10:56:47 প্রিন্ট সংস্করণ

সাধারণত জাল বা টোপ পেতেই মাছ ধরা হয়। কিন্তু এই মাছ ধরতে কিছুই লাগেনি। সাগর থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে জাহাজে উঠেছে ইলিশ! আকারে ছোট হলেও এক-দুইটি নয়, প্রায় তিন মণ ইলিশ উঠেছে জাহাজটিতে।
পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের রাবনাবাদ চ্যানেলের প্রথম বয়া ছাড়িয়ে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের গভীর বঙ্গোপসাগরে বিস্ময়কর এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ এমভি কেএসএল গ্লাডিয়েটর-এর নাবিকরা যেন হঠাৎই এক অপার্থিব বিস্ময়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন।
জাহাজের প্রকৌশলী রবিউল হোসেন শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, তিনি ইলিশ জাহাজে ওঠার সেই ভিডিও ধারণ করেন। পরে তীরে এসে ভিডিওটি সাংবাদিকদের দেখান।

জাহাজের প্রকৌশলী রবিউল হোসেন সাংবাদিকদেরকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জেটির দিকে এগোচ্ছে জাহাজ। হঠাৎই সাগরের বুক চিরে জাহাজের দুই পাশ বেয়ে ছুটে আসে ছোট ছোট ইলিশের দল।
যেন ভয়-মিশ্রিত উৎসবে একসঙ্গে ঝাঁকে ঝাঁকে উঠছে ইলিশের ঝাঁক। মুহূর্তেই ডেকে পড়তে থাকে রুপালি মাছ।

নাবিকদের কথায়, চোখের পলকে আনুমানিক তিন মণ ইলিশ উঠে এলো ডেকে! আমরা যতটা পারলাম কুড়িয়ে নিলাম, বাকিটা আবার সাগরেই গড়িয়ে পড়লো।
ঘটনাটি এতটাই অবিশ্বাস্য যে জাহাজের প্রকৌশলী রবিউল হোসেন তৎক্ষণাৎ মোবাইল তুলে ১০ সেকেন্ডের ভিডিও ধরে রাখেন।
সেই ভিডিওয় ধরা পড়ে সমুদ্রের বুকে রুপালি ঝাঁকের আতঙ্ক-ভরা ছুট, আর এক লাইটার জাহাজের ডেকে যেন আকস্মিক ‘ইলিশ-বৃষ্টি’র বিস্ময়। সমুদ্রের এমন অদ্ভুত আচরণে হতবাক নাবিকদের একটাই মন্তব্য, এ রকম দৃশ্য জীবনে একবারই দেখা যায়!

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার জানান, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণে ঘটনাটির পেছনে মূলত শিকারি মাছের তাড়া, জাহাজের আলো এবং শব্দের প্রভাব দায়ী হতে পারে।
তার ব্যাখ্যায়-সমুদ্রে বড় শিকারি মাছ, যেমন টুনা বা ম্যাকারেল, ইলিশের পালের পেছনে তাড়া করলে আতঙ্কে ছোট ইলিশেরা জাহাজের আলো কিংবা শব্দের দিকেই ছুটে আসে। জাহাজের গা ঘেঁষে পানি সরু হয়ে গেলে মাছগুলো ওপরের দিকে ঠেলে উঠে যায়; তখন লাফাতে লাফাতে ডেকে পড়ে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।
অধ্যাপক রাজীব আরও জানান, জাহাজের তলার নেভিগেশন লাইট, ইঞ্জিনের কম্পন বা প্রপেলারের শব্দ অনেক সময় ছোট মাছকে আকর্ষণ করে কিংবা বিভ্রান্ত করে। এসব কারণেই তারা দল বেঁধে জাহাজের খুব কাছে চলে আসে।