
প্রতিনিধি 13 November 2025 , 4:20:41 প্রিন্ট সংস্করণ

তালেবানশাসিত আফগানিস্তানে নারীদের জন্য আবারও কঠোর পোশাকবিধি জারি করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বোরকা ছাড়া নারীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন-এমনকি নারী স্বাস্থ্যকর্মী ও সেবিকাদেরও বোরকা ছাড়া হাসপাতালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা মেডিসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) জানায়, আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে ৫ নভেম্বর থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে।
সংস্থাটির আফগানিস্তান প্রকল্প ব্যবস্থাপক সারা চাতো বিবিসিকে বলেন, এই নিয়ম আফগান নারীদের জীবনে আরও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার মারাত্মকভাবে সীমিত করছে। এমনকি জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও অনেক নারী হাসপাতাল পর্যন্ত যেতে পারছেন না।
তবে তালেবান সরকারের মুখপাত্র এমএসএফের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, সমালোচনার মুখে কিছু এলাকায় নিয়মটি আংশিকভাবে শিথিল করা হয়েছে।
এমএসএফ, যারা হেরাত আঞ্চলিক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগে সহায়তা দেয়, জানিয়েছে, নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার পর প্রথম কয়েক দিনে জরুরি রোগী ভর্তি ২৮ শতাংশ কমে গেছে।
সারা চাতো বলেন, তালেবান সদস্যরা হাসপাতালের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে বোরকা ছাড়া নারীদের ভেতরে ঢুকতে দিচ্ছে না।

এদিকে, তালেবানের ‘নৈতিকতা ও পাপ প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়’-এর মুখপাত্র সাইফ-উল-ইসলাম খাইবার অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের অবস্থান শুধু হিজাব পরিধান নিয়ে। হিজাব বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়, যার অনেকটাই শরিয়াহ আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তবে হেরাতের এক নারী অধিকারকর্মী জানান, বাস্তবে হাসপাতাল, স্কুল এবং সরকারি অফিসে বোরকা ছাড়া প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
নতুন এই বিধি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এক আফগান নারী কর্মী ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে দেখা যায়, কিছু নারী বোরকা পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। যদিও ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি বিবিসি।
তালেবান ১৯৯০-এর দশকে প্রথম ক্ষমতায় থাকাকালেও নারীদের জন্য বোরকা বাধ্যতামূলক করেছিল। ২০২১ সালের আগস্টে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে তারা ধীরে ধীরে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনজীবনে অংশগ্রহণ সীমিত করেছে।
২০২২ সালে তালেবান সরকার নারীদের জনসমক্ষে মুখ ঢাকা পূর্ণাঙ্গ পোশাক পরার নির্দেশ দেয়, যা তখন পরামর্শ হিসেবে বলা হয়েছিল। তবে এবার, এমএসএফের দাবি অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো হেরাতে সেটি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ ইতোমধ্যেই তালেবানের এই কার্যক্রমকে “লিঙ্গভিত্তিক বর্ণবৈষম্য (gender apartheid) হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।