
প্রতিনিধি 8 April 2026 , 11:34:11 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতে দিল্লিতে বৈঠকে বসছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ভারতের রাজধানীর হায়দ্রাবাদ হাউসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এই বৈঠকের। এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ উপস্থিত থাকবেন।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচ্যসূচির মধ্যে রয়েছে বাণিজ্য-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনরায় চালু, জ্বালানি নিরাপত্তা, গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়ন এবং সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়টি।

এ ছাড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় সব ধরনের ভিসা পুনরায় চালু করা, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের দায়ে অভিযুক্তদের দেশে প্রত্যর্পণ এবং ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের ফেরানোর বিষয়ও আলোচনায় উঠতে পারে।
দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের সফর বিনিময় এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতার প্রতি ভারতের সমর্থন নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব সম্পর্কেও মতবিনিময় হতে পারে।
দিল্লি সফরের অংশ হিসেবে বিকেলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর।
মূলত ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে অংশ নিতে মরিশাস যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দিল্লিতে পৌঁছান ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশ সরকার তার এই সফরকে শুভেচ্ছা সফর হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এটিই বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রীর প্রথম দিল্লি সফর।
ধারণা করা হচ্ছে, এই যাত্রাপথে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে দুই দেশের মন্ত্রীরা একান্ত পরিবেশে আরও বিস্তারিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। ফলে দিল্লির বৈঠকের পাশাপাশি মরিশাসেও দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে।