
প্রতিনিধি 26 March 2026 , 1:02:22 প্রিন্ট সংস্করণ

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা গণভোট অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে। আইন মন্ত্রণালয় এই সুপারিশ করেছে দাবি করে এর বিরোধিতা করেছে সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিশেষ কমিটির বৈঠকে এই বিরোধিতা করেন জামায়াতের সদস্য।
সরকারি দল বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈঠকে গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে তেমন আলোচনা হয়নি। এ নিয়ে ২৯ মার্চের বৈঠকে অথবা সংসদ অধিবেশনে আলোচনা করা হবে।
সূত্র বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১১৩টির বিষয়ে সরকারি ও বিরোধী দল একমত হয়েছে। তবে গণভোট অধ্যাদেশসহ ২০টির বিষয়ে গতকালের মুলতবি বৈঠকেও একমত হতে পারেনি বিশেষ কমিটি। এগুলোর মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অধ্যাদেশ সংশোধন; জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ সংশোধন এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ সংশোধনের সুপারিশে আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল। ফলে এসব অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হলেও সিদ্ধান্ত হয়নি। ২৯ মার্চ আবার আলোচনা হবে। বিশেষ কমিটিতে ঐকমত্য না হলে সেগুলো সংসদে তোলা হবে।
ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে আইনে পরিণত না করলে সেগুলো বাতিল হয়ে যাবে। এসব অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করার জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ। পরে অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করতে বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটিকে ২ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ কমিটিতে গণভোট অধ্যাদেশ রহিতকরণের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশে মন্ত্রণালয় বলেছে, যেহেতু যে আদেশের ভিত্তিতে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেটি এখতিয়ারবহির্ভূত; সুতরাং এটাকে কোনোভাবে আইনে পরিণত করা যাবে না। অধ্যাদেশটি পাস করা যাবে না।
এই সুপারিশে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় হুইপ ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, গণভোট মানে তো জনগণ ভোট দিয়ে তাঁদের রায় ঘোষণা করেছেন। কোনো আইন এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে হয়েছে কি না, সেটি আদালতই ঘোষণা করবেন। বিদ্যমান আইনকে এভাবে বাতিলের সুপারিশ করা ঠিক হবে না।
বৈঠক শেষে রফিকুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণভোট বিল রহিতকরণের জন্য তাঁরা এনেছেন। এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। এতে একমত হওয়ার প্রশ্নই থাকে না। কারণ, গণভোট অস্বীকার করলে জুলাই চেতনাই থাকে না। এটি নিয়ে আমরা তীব্র বিরোধিতা করেছি। পরে আলোচনা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’জানতে চাইলে বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গণভোটের বিষয়ে বৈঠকে তেমন আলোচনা হয়নি। এটা নিয়ে ওই দিনই (২৯ মার্চ) আলোচনা করব। অথবা সংসদে আলাপ-আলোচনা হবে।’ আপনারা (সরকারি দল) ওই অধ্যাদেশ রহিত করার প্রস্তাব করেছেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা এটাকে রহিত করার প্রস্তাব করিনি, রাখারও প্রস্তাব করিনি। আমরা বলেছি এটা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংবিধানের আলোকে এগুলো আলোচনা করতে হবে। কারণ, সংবিধান সবার ঊর্ধ্বে। সংসদ সংবিধান মোতাবেক চলবে। সে জন্য গণভোটসহ সবকিছু আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করতে চাই।’
গণভোট অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপির অবস্থান জানতে চাইলে জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘এটা সংসদের বিষয়। বিশেষ কমিটি এ বিষয়ে ঐকমত্য হতে না পারলে আমরা সংসদে আলোচনা করব।’