
প্রতিনিধি 5 March 2026 , 4:37:09 প্রিন্ট সংস্করণ

সৌদি আরবের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে উল্লেখিত দায়বদ্ধতার কারণে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে পাকিস্তানকে জড়াতে হতে পারে। এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। মঙ্গলবার তিনি জানান, ইরান যদি সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইসলামাবাদ চুক্তির বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে পারে।
দার বলেন, তিনি শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে আলাপে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যেখানে বলা আছে-‘দুই দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে আগ্রাসন উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচিত হবে।’
তিনি আরও জানান, আরাঘচি তার কাছে ‘নিশ্চয়তা’ চেয়েছেন যেন সৌদি ভূখণ্ড ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার না হয়।

গত বছর ১৭ সেপ্টেম্বর সই হওয়া এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো এবং ‘যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ শক্তিশালী করা।’ চুক্তির সময় উভয় দেশ আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেছিল। এটি এমন এক প্রেক্ষাপটে হয়েছিল, যখন কাতারের রাজধানীতে ইসরায়েলের হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
ইসহাক দারের এই মন্তব্য আসে এমন এক দিনে, যখন সৌদি রাজধানী রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন আঘাত হানে। এতে অগ্নিকাণ্ড ও কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়। একই সঙ্গে সোমবার রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার সৌদি আরামকোর রাস তানুরা তেল শোধনাগারেও হামলার ঘটনা ঘটে। বুধবার সেখানে দ্বিতীয় দফা হামলার খবর পাওয়া গেছে।
হামলার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের প্রতি ‘পূর্ণ সংহতি’ প্রকাশ করেছেন।
তবে এখনো পর্যন্ত পাকিস্তান চুক্তি অনুযায়ী সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়নি। উল্লেখ্য, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিবেশী আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনার মধ্যেই চরম উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন পাকিস্তান।
ইরান ও পাকিস্তানের সম্পর্কও দীর্ঘদিন ধরে জটিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করবে, নাকি সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়বে-সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।