
প্রতিনিধি 2 March 2026 , 2:01:03 প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বার্ষিক ইফতার মাহফিলের মেন্যুতে গরুর মাংসের পরিবর্তে মুরগির মাংস রাখায় ইফতার বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের অধিকারে হস্তক্ষেপ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘তামাশা’ করেছে।
রোববার (০১ মার্চ) রাতে ইফতারের মেন্যু নিয়ে ঢাবির প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে জানানো হয়, এ বছরের বার্ষিক ইফতারের মেন্যুতে গরুর মাংস থাকছে না। এ সিদ্ধান্ত শোনার পরপরই বিভিন্ন হল সংসদ ও শিক্ষার্থীরা ইফতার বর্জনের ঘোষণা দেয়।
জানা গেছে, প্রতি বছর রমজানে যেকোনো একদিন শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার ও ডিনারের আয়োজন করে ঢাবি কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর ৪ মার্চ বার্ষিক ইফতারের দিন ধার্য করা হয়েছে। তবে বাজেট স্বল্পতার ‘অজুহাতে’ এবারের মেন্যুতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইফতার বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বয়কটের ঘোষণা দিয়ে শহীদ ওসমান হাদি হল সংসদের (প্রস্তাবিত) জিএস আহমদ আল সাবাহ বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করে এবং তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করে হলের বার্ষিক ইফতার ও রাতের খাবারের আয়োজনে ‘গরু’ আইটেম অন্তর্ভুক্ত না করায় শহীদ ওসমান হাদি হল সংসদ উক্ত ইফতার বয়কটের ঘোষণা দিচ্ছে।
ফজলুল হক মুসলিম হল সংসদের জিএস মো. ইমামুল হাসান বলেন, তারা প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এটি প্রভোস্ট কমিটির সিদ্ধান্ত, মিটিং ছাড়া পরিবর্তন করা যাবে না। এর ধারাবাহিকতায় অনলাইনে জরুরি সভা ডাকা হয় এবং গরুর মাংস না দেয়ার সিদ্ধান্ত বহাল থাকে।
তিনি আরও জানান, আগের বছরগুলোতে গরু দেয়া হয়েছে। এবারও বেশিরভাগ হল প্রভোস্ট গরু দেয়ার পক্ষে থাকলেও কোনো এক ‘অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাবে তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

কবি জসিমউদ্দীন হল সংসদের ভিপি মু. ওসমান গনী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন সবকিছুতেই রাজনীতি দেখছে। ছাত্র সংসদ বনাম প্রশাসনের এই অবস্থান থেকে দ্রুত সরে এসে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
এ বিষয়ে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হুসাইন আল মারুফ বলেন, ডিনস কমিটি ও প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠক মানেই শিক্ষার্থীদের বৈধ দাবিকে অগ্রাহ্য করা। রমজানে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিতের দাবির পর এবার ইফতারের মেনু নিয়েও একই ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জোবায়ের বলেন, খাবারের মেন্যুতে একটি আইটেম না থাকায় ইফতার বয়কট অনেকের কাছে তুচ্ছ মনে হতে পারে, কিন্তু বিষয়টি তা নয়। তার দাবি, গরুর গোশত উপমহাদেশে একটি রাজনৈতিক উপাদান হিসেবেও বিবেচিত হয়।
এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির সদস্য ও কবি জসিমউদ্দীন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. শাহিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তবে মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. নাজমুল হোসাইন বলেন, অধিকাংশ প্রভোস্ট জানিয়েছেন—পূর্বের মেন্যুঅনুযায়ী প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন। অনেকেই অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করে পণ্য কিনে ফেলেছেন। সময় স্বল্পতার কারণে এখন মেন্যুপরিবর্তন সম্ভব নয়।
এদিকে ইফতারে গরু মাংস রাখার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। এক বিবৃতিতে সাদা দল নেতারা জানিয়েছেন, ‘ইফতার ও এ ধরনের বিশেষ ভোজগুলোতে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের কাছে গরুর মাংস অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রত্যাশিত খাবার। ইতোমধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থী, ডাকসু ও হল সংসদের পক্ষ থেকেও গরুর মাংস অন্তর্ভুক্ত করার যৌক্তিক দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের এই দাবিকে উপেক্ষা করে মেন্যুপরিবর্তন করা হলে তাদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হতে পারে।’