
প্রতিনিধি 21 February 2026 , 8:13:46 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাকে যদি ধারণ করতে হয়, বাংলা ভাষাকে যদি মায়ের ভাষা বলতে হয়, তাহলে ইনকিলাব জিন্দাবাদ চলবে না। ইনকিলাব জিন্দাবাদ, ইনকিলাব মঞ্চ- এগুলোর সঙ্গে বাংলার কোনো সম্পর্ক নেই। এগুলো বললে আমাকে ভারতের দালাল বানিয়ে ফেলবে। তারপরও আমি বলব, কারণ আমার জীবন আছে বলেই আমি মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি এবং আমি মন্ত্রী হয়েছি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সিরাজগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
বাংলা ভাষাকে পৃথিবীর বুকে আরও সমৃদ্ধ ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে দিতে তরুণ সমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মাতৃভাষার যথাযথ চর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলার অবস্থান আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।

মন্ত্রী বলেন, বাংলা ভাষা আমাদের গৌরব ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। একুশের চেতনা ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলার ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শুদ্ধ ভাষা চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, তরুণরা যদি প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে বাংলা ভাষায় অ্যাপ, ওয়েবসাইট, গবেষণামূলক কাজ ও সৃজনশীল কনটেন্ট তৈরি করে, তবে বিশ্বমঞ্চে বাংলার মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাষা গবেষণা ও সৃজনশীল লেখালেখির পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, যে জাতি নিজের রাষ্ট্রের ইতিহাস জানে না, ভাষার ইতিহাস জানে না, সে জাতি বড় হতে পারে না। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলা ভাষা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ভাষার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম হবে।
জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ করুণা রানী সাহা, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক কামরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান দুলাল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু প্রমুখ। এ সময় সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।