• আন্তর্জাতিক

    যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র

      প্রতিনিধি 19 February 2026 , 9:16:39 প্রিন্ট সংস্করণ

    বিজ্ঞাপন
    Main Banner Ads For Captains TV

    ইরানে যে কোনো সময় হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এ জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া প্রায় শেষ। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর মার্কিন সামরিক বাহিনী এবারই মধ্যপ্রাচ্যে সর্বাধিক শক্তি মোতায়েন করেছে। বিশেষ করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অত্যাধুনিক এফ-৩৫, এফ-২২ র‌্যাপ্টার স্টিলথ যুদ্ধবিমান এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বিধ্বংসী ও অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানে রণসজ্জা সেজে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দিকে আসছে পারমাণবিকচালিত মার্কিন দ্বিতীয় রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। ইতোমধ্যে এই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম। সঙ্গে আরও হাজার হাজার সেনা, যুদ্ধবিমান, ডেস্ট্রয়ার ও প্রতিরক্ষায় সক্ষম অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন আছে। এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হচ্ছে। ইরানে আক্রমণের জন্য শুধু বাকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চূড়ান্ত সম্মতি।

    মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি: ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য ও সংবাদ প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, মার্কিন বিমানবাহিনীর কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান ও সহায়তাকারী বিমান জর্ডানের মুয়াফাক সালতি বিমান ঘাঁটি এবং সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আরও বিমান আসার পথে। ওয়ালিস জার্নালের প্রতিবেদন অনুসারে, এর মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫এস, এফ-১৫এস, এফ-১৬এস, এফ-২২ র‌্যাপ্টার স্টিলথ যুদ্ধবিমান, ই-৩ এয়ারবর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম এবং ই-১১ ব্যাটলফিল্ড এয়ারবর্ন কমিউনিকেশন নোড বিমান।

    বুধবার ফ্লাইটরাডার ২৪ মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী একাধিক বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমান, সঙ্গে ই৩ সেন্ট্রি বায়ুবাহিত সতর্কীকরণ, কার্গো বিমান সক্রিয় দেখা গেছে, যা বড় আকারের সমন্বিত সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

    একই সময়ে মার্কিন নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরে ১৩টি জাহাজ মোতায়েন করেছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সক্ষম নয়টি ডেস্ট্রয়ার এবং দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ও এর স্ট্রাইক গ্রুপের চারটি ডেস্ট্রয়ার, যা এই অঞ্চলে যোগ দিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এই মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চমাত্রার সামরিক প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক অবস্থানকে নির্দেশ করে।

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের আগের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অতিরিক্ত স্থল-ভিত্তিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রেরণ করেছেন ট্রাম্প। ‘কথা মতো’ তেহরান কাজ না করলে যে কোনো সময় আক্রমণ চালানোর সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া সম্পন্ন করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন। এখন শুধু বাকি ট্রাম্পের গ্রিন সিগন্যালের।

    প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যদি তিনি আক্রমণ করেও বসেন, তাহলে লক্ষ্য কী হবে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি নিশ্চিহ্ন করা, নাকি সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করা। সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান নেননি তিনি।

    বিজ্ঞাপন

    ২০০৩ সালের পর সবচেয়ে বড় মোতায়েন: ২০০৩ সালের পর এটিকে সবচেয়ে বড় সামরিক সমাবেশগুলোর একটি হিসেবে দেখা হলেও, ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে এটি ১৯৯১ সালের ‘অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম’ বা ২০০৩ সালের ইরাক আক্রমণের সময়কার মার্কিন মোতায়েনের তুলনায় অনেক ছোট। ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরে ছয়টি বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়েছিল এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিমান উইং মোতায়েন করে ছয় সপ্তাহের বিমান অভিযান চালিয়েছিল।

    এয়ার অ্যান্ড স্পেস ফোর্সেস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুযায়ী, ডেজার্ট স্টর্মে বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী ও মেরিন কর্পসের প্রায় ১ হাজার ৩০০টি বিমান অংশ নেয়। ২০০৩ সালে ইরাক অভিযানে মধ্যপ্রাচ্যে ৮৬৩টি মার্কিন বিমান মোতায়েন করা হয়েছিল। বর্তমানে মোতায়েনের আকার তুলনামূলকভাবে সীমিত এবং মিত্র স্থলবাহিনী বা বিস্তৃত আন্তর্জাতিক জোটের উপস্থিতিও নেই।

    বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল। কারণ ১৯৯১ সালের বিপরীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব সম্ভাব্য মার্কিন হামলার জন্য তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে অনেক মার্কিন যুদ্ধবিমান জর্ডানে কেন্দ্রীভূত রয়েছে। তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি যুক্তরাষ্ট্রকে সুবিধা দিচ্ছে; বিশেষ করে নির্ভুল হামলা ও উন্নত নজরদারি সক্ষমতা সীমিত শক্তি দিয়েও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করার সুযোগ তৈরি করেছে।

    হামলার সিদ্ধান্ত: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সপ্তাহব্যাপী স্থায়ী বিমান অভিযানের বিকল্প বিবেচনা করছেন, যা পূর্বের সীমিত হামলার চেয়ে বড় পরিসরের হতে পারে।

    তবে হোয়াইট হাউস এখনো নিশ্চিত নয় যে, সামরিক পদক্ষেপই সর্বোত্তম পথ কিনা। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে আলোচনা চলছে; জেনেভায় বৈঠকের পর সামান্য অগ্রগতির কথা জানানো হলেও বড় মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

    বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক বাহিনী প্রস্তুত থাকলেও ট্রাম্প এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং উপদেষ্টা ও মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করছেন। সম্ভাব্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে অভিযান এবং পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় বিমান হামলা, যা সপ্তাহব্যাপী চলতে পারে।

    সুবিধাজনক অবস্থানে ইরান: অন্যদিকে ইরানের হাতেও পাল্টা পদক্ষেপের নানা উপায় রয়েছে। তাদের বড় ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার রয়েছে, যা অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করতে পারে। এছাড়া তেহরান হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। ইতোমধ্যে সাময়িক সময়ের জন্য এই প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে ইরান। ফলে বিশ্ব বাণিজ্যে বড় প্রভাব লক্ষ করা গেছে।

    কিন্তু মার্কিন ও বিদেশি কর্মকর্তারা ব্যাপক হতাশ হয়ে পড়েছেন। কারণ তাদের মধ্যে এই ধারণা বদ্ধমূল হয়েছে যে, ইরান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মেনে নেবে। তারা বিশ্বাস করেন, তেহরান কেবল অল্প সময়ের জন্য তার পারমাণবিক-সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করতে ইচ্ছুক হতে পারে। আর এটা সম্ভবত ট্রাম্পের শাসনামল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। অর্থাৎ ট্রাম্পের মেয়াদকাল শেষ হলেই আগের অবস্থানে ফিরতে পারে ইরান।

    যদিও গত সোমবার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না তারা চুক্তি না করার পরিণতি চায়।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এই হুমকি আদতে তেহরানের টনক নড়াতে পারবে কিনা, এ নিয়েও বেশ সন্দেহপ্রবণ মার্কিন কর্মকর্তারা। কারণ ইরানের হাতে বেশ কিছু শক্ত বিকল্প রয়েছে, যার প্রভাব দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পড়বে। এ কারণে কিছু মার্কিন সামরিক কর্মকর্তা মনে করেন, পূর্ণাঙ্গ সংঘাতের চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানই উত্তম হতে পারে।

    আরও খবর

    Sponsered content

    বিজ্ঞাপন
    সর্বশেষ সংবাদ
    9:16 PM যে কোনো সময় ইরানে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র 9:11 PM এইচএসসির ফরম পূরণের সূচি প্রকাশ 9:05 PM সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপি থেকে আলোচনায় যারা 8:48 PM ১৮ দিনে প্রবাসী আয় ২৬ হাজার কোটি টাকা 8:41 PM ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, প্রাথমিকভাবে সুবিধা পাবেন যারা  8:34 PM সড়কে সমঝোতার ভিত্তিতে টাকা নেওয়া চাঁদা নয়, বাধ্য করা হলে চাঁদা: সড়ক পরিবহন মন্ত্রী 8:28 PM শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে আনতে কী করবে নতুন সরকার 7:21 PM নন-ক্যাডার: ৪৪ তম বিসিএসের ৪ হাজার ১৩৬ জনকে নিয়োগ 7:03 PM আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার চলমান থাকবে: চিফ প্রসিকিউটর 6:56 PM চাকরি হারালেন নির্বাচন কমিশনের ১৫ কর্মী