
প্রতিনিধি 10 February 2026 , 6:06:41 প্রিন্ট সংস্করণ

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাঁদের স্ত্রী-স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে এই সম্পদ বিবরণী জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলো।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এসব সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ ও তাঁদের স্ত্রী-স্বামীর ৩০ জুন ২০২৪ এবং ৩০ জুন ২০২৫ তারিখ পর্যন্ত হালনাগাদ সম্পদের বিবরণ প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা নির্দেশনার আলোকে এ সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। এতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের আর্থিক অবস্থান সম্পর্কে জনগণের সামনে স্বচ্ছ ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে।
এর আগে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাঁর সরকারের সব উপদেষ্টার সম্পদ বিবরণী দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবেই এবার সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ওই ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেছিলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। সে কারণেই উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেছিলেন, শুধু উপদেষ্টারাই নয়, পর্যায়ক্রমে সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ক্ষেত্রেও সম্পদ বিবরণী প্রকাশ ও তা নিয়মিত হালনাগাদ করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হবে। এতে করে রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে জবাবদিহিতা ও সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্পদ বিবরণীতে উপদেষ্টাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, নগদ অর্থ, ব্যাংক জমা, বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদের বিবরণও এতে সংযুক্ত রয়েছে। এ উদ্যোগকে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপ প্রশাসনে স্বচ্ছতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ভবিষ্যতে নিয়মিতভাবে সম্পদ বিবরণী প্রকাশের সংস্কৃতি চালু হলে দুর্নীতি প্রতিরোধে তা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রকাশিত সম্পদ বিবরণী যে কেউ দেখতে পারবেন। এর মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্ত ব্যক্তিদের আর্থিক অবস্থান সম্পর্কে অবগত হওয়ার সুযোগ পাবেন, যা গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।