
প্রতিনিধি 5 February 2026 , 1:45:12 প্রিন্ট সংস্করণ

ইরানে নারীরা এখন থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মোটরসাইকেল চালানোর জন্য লাইসেন্স নিতে পারবেন। দেশটির সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে বুধবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে দুই চাকার যান চালানো নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি অস্পষ্টতার অবসান ঘটেছে।
এর আগে, দেশটির আইনে নারীদের মোটরসাইকেল কিংবা স্কুটার চালানো স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ছিল না। তবে নারীদের লাইসেন্স দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিল কর্তৃপক্ষ। এই আইনি অস্পষ্টতার কারণে দুর্ঘটনার শিকার হলেও অনেক সময় নারীদেরই দায়ী করা হতো।
ইরানের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ মঙ্গলবার নারীদের লাইসেন্স প্রদান সংক্রান্ত এক প্রস্তাবে সই করেন। দেশটির বার্তা সংস্থা ইলনা বলেছে, সড়ক আইন স্পষ্ট করার লক্ষ্যে ওই প্রস্তাব আনা হয়। গত জানুয়ারির শেষের দিকে ইরানের মন্ত্রিসভায় প্রস্তাবটি অনুমোদন পায়।


ইলনা বলেছে, প্রস্তাব অনুযায়ী ট্রাফিক পুলিশকে নারী আবেদনকারীদের জন্য ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পুলিশের সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা গ্রহণ এবং নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স দিতে হবে।
ক্ষমতাসীন সরকার-বিরোধী বিক্ষোভে ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ভয়াবহ অস্থিতিশীলতার মাঝে কর্তৃপক্ষ নারীদের মোটরসাইকেল চালানোর লাইসেন্স দেওয়ার ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে অর্থনৈতিক দুর্দশা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সরকার পতনের আন্দোলনে রূপ নেওয়ায় কঠোর অভিযান চালিয়ে দমন করা হয়।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ইরানে নারীরা বিভিন্ন ধরনের সামাজিক বিধিনিষেধের মুখে পড়েন। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে পোশাকবিধি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জনসমক্ষে নারীদের স্কার্ফ পরিধান ও শালীন এবং ঢিলেঢালা পোশাক পরতে হয়। তবে গত কয়েক বছরে অনেক নারী এসব বিধি অমান্য করছেন। গত কয়েক মাসে মোটরসাইকেলে নারীদের চলাচল ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২২ সালে দেশটির নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মাহসা আমিনি নামের এক তরুণীর মৃত্যুর পর এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়। পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক ওই তরুণীর মৃত্যুর ঘটনায় সেই সময় দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।