
প্রতিনিধি 4 February 2026 , 7:55:24 প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে। এ বিষয়ে দলটির আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ইশতেহার জাতির প্রতি আমাদের একটি প্রতিজ্ঞা। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল তিনটার দিকে ‘জন প্রত্যাশার ইশতেহার’ শিরোনামে দলটি তাদের এই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে। ইশতেহারে বেশকিছু মৌলিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
রেজাউল করীম বলেন, ‘এই ইশতেহারে রাষ্ট্র গঠনের নীতিগত ও প্রশাসনিক সংস্কার, অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জন্য জরুরি ব্যবস্থা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নাগরিক সেবাই আমাদের মুখ্য অঙ্গিকার হিসেবে ঘোষণা করছি। বাংলাদেশের ৯০% মানুষ মুসলমান। তাই রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বত্র শরীয়াহ-র প্রাধান্য নিশ্চিত করা হবে’।
দলটির ইশতেহারের মৌলিক বিষয়গুলো:
১. দেশের স্থায়ী শান্তি ও মানবতার সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন।
২. দুর্নীতি, দুঃশাসন, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদকমুক্ত কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
৩. সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সুশাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা।
৪. রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বত্র শরীয়াহ’র প্রধান্য।
৫. কৃষি ও শিল্প বিপ্লব ঘটিয়ে বেকার ও দারিদ্র্যমুক্ত এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধশালী দেশ গঠন।
৬. নৈতিকতায় সমৃদ্ধ কর্মমুখী, বিজ্ঞান ভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা।
৭. সার্বজনীন কর্মসংস্থান।
৮. পর্যায়ক্রমিক রাষ্ট্রসংস্কার।
৯. মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যাশার প্রতি দায়বদ্ধতা।
১০. আর্থিক, সামরিক ও কূটনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।!
১১. নারী, শ্রমিক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকারসহ সকল জনগোষ্ঠীর মৌলিক ও মানবাধিকারের সুরক্ষা।

১২. রাষ্ট্র-সমাজ ও অর্থনীতিতে বৈষম্য বিলোপ।
১৩. সকলের জন্য সাশ্রয়ী ও উন্নত স্বাস্থ্যব্যবস্থা।
১৪. পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু অভিঘাত ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব।
১৫. ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহাবস্থান।
১৬. শুধু দুর্নীতি-সন্ত্রাস দমন নয়; নির্মূলকরণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে।
১৭. শুধু আইনের শাসন নয়; ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা।
১৮. জনমতের যথার্থ প্রতিফলন, সুষ্ঠু নির্বাচন ও কার্যকর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে PR (Proportional Representation) পদ্ধতি বাস্তবায়ন।
১৯. মানুষের সার্বিক কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় ধর্ম ও রাজনীতির সমন্বয় করা।
২০. দুর্নীতি, সন্ত্রাস, খুন ও অনৈতিক পেশার সাথে জড়িতদের রাজনীতিতে নিষিদ্ধকরণ।
২১. খুন, গুম, মিথ্যা, গায়েবি মামলা, জুলুম, নির্যাতন ও দুঃশাসনের বিলোপ।
২২. জনগণের বাক-স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
২৩. নারীদের শুধু সমঅধিকার নয়; অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।
২৪. শিল্পোদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান, গ্যাস, বিদুূৎ, পানি, স্যুয়ারেজ, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ওয়ানস্টপ সার্ভিস কর্মসূচি গ্রহণ।
২৫. সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণ করা।
২৬. মৎস ও প্রাণী সম্পদখাতে বিদ্যমান সমস্যা দূর করে এইখাতে বাংলাদেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও বৈশ্বিক মানের উন্নিত করা হবে।
২৭. সড়ককে নিরাপদ করার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২৮. বাংলাদেশকে ১৫ বছরের মধ্যে উন্নত ও কল্যাণরাষ্ট্রে পরিণত করা।
২৯. শ্রমের মর্যাদা ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা।
৩০. সরকারী চাকরিজীবীদের জাতীয় পে-স্কেল যুগোপযোগী এবং সর্বোচ্চ সম্মানজনক করা হবে।