• রাজনীতি

    ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মামুনুল হক

      প্রতিনিধি 27 January 2026 , 7:09:15 প্রিন্ট সংস্করণ

    ছবি: ক্যাপ্টেন্স টিভি
    ছবি: ক্যাপ্টেন্স টিভি
    বিজ্ঞাপন
    Main Banner Ads For Captains TV

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত  খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য (এমপি) প্রার্থী মো. মামুনুল হক। ঢাকা-১৩ আসনটি ঢাকা শহরের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ঢাকা-১৩ হল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার একটি। এটি ঢাকা শহরে অবস্থিত জাতীয় সংসদের ১৮৬নং আসন।

    ১৯৭৩ সালের ৩ সেক্টেম্বর জন্ম নেওয়া মো. মামুনুল হক পেশায় একজন শিক্ষক এবং রাজনীতিবিদ। তিনি রাজধানীর আজিমপুরে ঢাকার একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আজিজুল হক ছিলেন একজন বাংলাদেশি ইসলামি পণ্ডিত ও সহিহ বুখারীর প্রথম বাংলা অনুবাদক, যিনি ‘শায়খুল হাদিস’ নামে সমাধিক পরিচিত ও মা ছারা বেগম একজন গৃহিনী। মো. মামুনুল হকের স্ত্রী আমিনা তাইয়েবা ।পেশাই তিনি গৃহিনী এবং কুরআনে হাফেজ। দাম্পত্য জীবনে তাদের চারটি পুত্র সন্তান (যিমামুল হক,ইমাদুল হক,মিদাদুল হক ও যিয়াদুল হক)।  মো. মামুনুল হক বাবা মায়ের তেরো   সন্তানের মধ্যে  একজন। তাঁর বড় ভাই মাওলানা মাহফুজুল হক বাংলাদেশ কওমী মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড-এর মহাসচিব এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য। তাঁর পাঁচ ভাই ও আট বোনের পরিবারে শতাধিক হাফেজ ও আলেম রয়েছে।

    পড়াশোনার প্রথমপাঠ গ্রহণ করতে হজরত শাইখুল রহ. এর কাছে। ১৯৮৫ সালে লালবাগ চানতারা জামে মসজিদ মাদরাসা থেকে পবিত্র কুরআন হিফজ করেন । ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠালগ্নে জামিয়া রাহমানির আরাবিয়ায় ভর্তি হন।

    মো. মামুনুল হক মাত্র ১২ বছর বয়সে কুরআনের হিফজ সম্পন্ন করা মামুনুল হক কওমী মাদরাসা বোর্ডের অধীনে উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম, স্নাতকে তৃতীয় এবং ১৯৯৬ সালে দাওরায়ে হাদীস পরীক্ষায় সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। পাশাপাশি তিনি অর্থনীতিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং বিশ্বখ্যাত ইসলামিক স্কলার জাস্টিস মুফতি তাকি উসমানীর কাছ থেকে ইসলামী অর্থনীতির ওপর বিশেষ কোর্স সম্পন্ন করেন।

    তিনি টানা ৩১ বছর ধরে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বুখারী শরীফের অধ্যাপনা করে আসছেন। গবেষণাধর্মী ম্যাগাজিন মাসিক রাহমানী পয়গাম-এর সম্পাদক হিসেবেও তিনি সুপরিচিত।

    এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে অর্থনীতিতে কৃতিত্বের সাথে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। হাদিসের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন সূচনা করেন। তিনি পাঁচ বছর সিরাজগঞ্জ জামিয়া নিজামিয়া বেথুয়া মাদ্রাসা এবং দুই বছর মিরপুর জামিউল উলুমে শিক্ষকতা করেন। তারপর ২০০০ সাল থেকে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, ঢাকার শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। ২০১৫ সালে তিনি মাহাদুত তারবিয়্যাতুল ইসলামিয়া নামে একটি উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি বায়তুল মামুর জামে মসজিদের খতিব। তিনি তারবিয়্যাতুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা, মাসিক রহমানী পয়গামের সম্পাদক, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি। ২০২০ সালের ১০ অক্টোবরে তিনি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ও ১৫ নভেম্বর হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব নির্বাচিত হন। ২৬ ডিসেম্বর হেফাজতের এক সভায় তাকে ঢাকা মহানগরীর মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইংরেজী, আরবীসহ প্রায় ৫টি ভাষায় তাঁর দক্ষতা রয়েছে।

    মো.মামুনুল হকের প্রকাশিত বই ১০ টি ও সম্পাদিত গ্রন্থ ৪ টি।তার লেখা গ্রহন্থ গুলো হলো কারাগার থেকে বলছি (২০১৩),মেহরাব ও মিম্বারের কথা,সময়ের পয়গাম,স্বাধীনতা সংগ্রামে আলেম সমাজের ভূমিকা,সত্যের পথে সংগ্রাম,নারী অধিকার: ব্যাখ্যা ও ভ্রান্তি নিরসন,পহেলা বৈশাখ: ইসলাম কি বলে?,সফল মুমিনের পরিচয়,খেলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা: পরিচিতি ও নীতিমালা,ইসলামি আন্দোলনে চাই জিন্দাদিল কর্মী,ইসলামি সংগঠনে নেতৃত্ব ও আনুগত্য,নেতৃত্ব, আনুগত্য ও ইসলামি জীবন,ইসলামি সংগঠন কি এবং কেন?,একটি দ্বীনি দাওয়াত। সমকালীন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কলাম প্রবন্ধ লিখছেন বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও মাসিক পত্রিকায়।

    বিজ্ঞাপন

    ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. মামুনুল হক আন্দোলন-সংগ্রামে সাহসী ভূমিকার জন্য দেশব্যাপী পরিচিত পান। ১৯৯৩ সালের বাবরি মসজিদ লংমার্চ, ২০০১ সালের ফতোয়া বিরোধী আন্দোলন, ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন এবং ২০২১ সালের মোদী ও ভাস্কর্য বিরোধী আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন।পরবর্তীতে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে তাকে পুনরায় গ্রেফতারের অভিযোগ উঠে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, ২০২১ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে সারাদেশে রাষ্ট্রদ্রোহসহ অর্ধশতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালে দায়ের করা একটি মোবাইল ও মানিব্যাগ চুরির মামলায় তাকে ২০২১ সালের ১৮ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয়। আপসহীন অবস্থানের কারণে ২০১৩ সালে এবং ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর তাঁকে কারাভোগ করতে হয়।

    ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে তাঁর ‘লাশ নিয়ে মিছিল’ ঘোষণাকে আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সাহসী উচ্চারণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

    ২০২১ সালের ৮ মার্চ চুয়াডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত এক ইসলামি মহাসম্মেলনে তাকে ‘বঙ্গবাঘ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। চুয়াডাঙ্গা জেলা উলামা পরিষদের পক্ষ থেকে এই উপাধি ঘোষণা করা হলে মাইকে ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মাহফিলস্থলে উপস্থিত লাখো মানুষ ‘নারায়ে তাকবির-আল্লাহু আকবর’ ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলে। চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আগত মানুষের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।

    ঢাকা-১৩ আসনে প্রাজ্ঞ, নির্ভীক ও ইনসাফভিত্তিক নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে আলোচনায় এসেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও সমাজনেতা আল্লামা মোঃ মামুনুল হক। দীর্ঘ চার দশকের বেশি সময় ধরে মোহাম্মদপুরে বসবাসকারী এই আলেম শুধু ধর্মীয় অঙ্গনেই নয়, শিক্ষা, সমাজসেবা ও গণআন্দোলনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

    সমাজসেবায়ও তাঁর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ক্যাম্প স্থাপন, ফেনীর ভয়াবহ বন্যায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শাপলা চত্বরে শহীদদের তালিকা প্রকাশ, আহতদের চিকিৎসা ও শহীদ পরিবারগুলোর সহায়তা নিশ্চিত করেন তিনি।

    স্থানীয়দের মতে, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ন্যায়ভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক সমাজ গঠনের অঙ্গীকারই আল্লামা মামুনুল হকের রাজনীতির মূল দর্শন। তাঁদের ভাষ্য, ঢাকা-১৩ আসনের উন্নয়ন ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় তাঁর মতো সাহসী ও জনঘনিষ্ঠ নেতৃত্বের বিকল্প নেই।

    হলফনামার সম্পদের বিবরণ

    নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, মো. মামুনুল হক, শিক্ষকতা ও ব্যবসার মাধ্যমে তিনি মোট ১ কোটি ৬৭ লাখ ৯১ হাজার ৩১৫ টাকার সম্পদের মালিক হলেও ব্যাংক ব্যালেন্স শূন্য।মামুনুল হক হলফনামায় নিজের পেশা হিসেবে ‘শিক্ষকতা’ উল্লেখ করেছেন। তাঁর হাতে রয়েছে নগদ ৮৩ লাখ ২ হাজার ৮৩৭ টাকা। এছাড়া স্থাবর সম্পদ হিসেবে রয়েছে ৮১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৫৮ টাকার অকৃষি জমি। তবে নিজের বা পরিবারের কোনো ব্যাংক ঋণ নেই।

    বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৩৩৪ টাকা, যার মধ্যে ৬ লাখ ৫৬ হাজার ৮৯০ টাকা আসে শিক্ষকতা ও পরামর্শক খাত থেকে এবং বাকি অংশ ব্যবসা থেকে। দাখিলকৃত ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্নে বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ৭৬ হাজার ৮৯০ টাকা, যার জন্য তিনি ৫৯ হাজার ৩৪ টাকা আয়কর দিয়েছেন।ব্যক্তিগত সম্পদের মধ্যে রয়েছে ২ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও ১ লাখ টাকার শেয়ার বিনিয়োগ। কোনো গাড়ি, স্বর্ণালঙ্কার বা সঞ্চয়পত্র নেই। স্ত্রী ও সন্তানদের নামে কোনো সম্পদ নেই এবং উত্তরাধিকারের মাধ্যমে কোনো সম্পত্তি পাননি।

    মামুনুল হকের নামে একসময় ৩৮টি মামলা ছিল; বর্তমানে ৩টি চলমান, যার মধ্যে একটি উচ্চ আদালত কর্তৃক স্থগিত। বাকিগুলোতে ৩২টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং ৫টিতে খালাস পেয়েছেন।অস্থাবর সম্পদের মধ্যে মীর আহমাদ বিন কাসেমের প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা নগদ অর্থ রয়েছে। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকে তাঁর জমা রয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা। ব্যাংক দুটিতে তাঁর ফিক্সড ডিপোজিট আছে ৭ লাখ ১৪ হাজার টাকার। দিগন্ত মিডিয়া করপোরেশনে শেয়ার রয়েছে তাঁর, যার অর্জনকালীন মূল্য এক লাখ টাকা বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    আরও খবর

    Sponsered content

    বিজ্ঞাপন
    সর্বশেষ সংবাদ
    7:05 PM পোস্টাল ব্যালটে কারাবন্দিদের ভোটগ্রহণ শুরু, চলবে ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত 6:36 PM শবেবরাত উপলক্ষে বিশ্ব মুসলমানদের শান্তি কামনা করেন তারেক রহমান 6:35 PM ভোটকেন্দ্রে অনিয়ম হলে সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে: আনসার মহাপরিচালক 6:27 PM মোবাইল হস্তান্তর বা বিক্রির আগে নিবন্ধন বাতিল করতে হবে: বিটিআরসি 5:53 PM “ভারতীয় ও সাপের সঙ্গে দেখা হলে আগে ভারতীয়কে মারো” 5:45 PM জাপানে টানা তুষারপাতে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু 5:38 PM এনসিটি ইস্যু: চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা 5:37 PM ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ টেলিভিশনে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান 5:35 PM ৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপির ইশতেহার ঘোষণা: মাহদী আমিন 5:08 PM বিচ্ছেদের পেছনে তৃতীয় পক্ষের কোনও ভূমিকা নেই: পরীমনি