
প্রতিনিধি 26 January 2026 , 5:58:06 প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৩ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ। ঢাকা-১৩ হল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের ৩০০টি নির্বাচনী এলাকার একটি। এটি ঢাকা শহরে অবস্থিত জাতীয় সংসদের ১৮৬নং আসন। ঢাকা-১৩ আসনটি ঢাকা শহরের ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত।
১৯৭৮ সালের ৭ এপ্রিল জন্ম নেওয়া ববি হাজ্জাজ পেশায় একজন বহুমুখী পেশাগত পরিচয়ে সমৃদ্ধ বর্তমানে শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি ও কর্পোরেট খাতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। তিনি দেশের অন্যতম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে একজন শিক্ষাকতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উচ্চশিক্ষার অঙ্গনে তাঁর এই ভূমিকা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।একই সঙ্গে তিনি কর্পোরেট জগতেও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছেন। ববি হাজ্জাজ ডেটকো প্রাইভেট লিমিটেড-এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি জ্ঞানী আইটি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক কার্যক্রম ও কৌশলগত উন্নয়নে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।এছাড়াও তিনি ভেরিটাস একাডেমির ম্যানেজিং পার্টনার হিসেবে যুক্ত আছেন, যেখানে শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
ববি হাজ্জাজ ১৯৭০-এর দশকের প্রথম দিকে ঢাকায় ড. মুসা বিন শামশের এবং মিসেস কানিজ ফাতেমা চৌধুরীর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন একজন খ্যাতনামা ব্যবসায়ী ম্যাগনেট এবং প্রাক্তন ছাত্র নেতা, যাকে বাংলাদেশের মানবসম্পদ রপ্তানি শিল্পের অগ্রদূত হিসেবে কৃতিত্ব দেওয়া হয়। তার মাতৃকুল পাবনার ধুলাই জমিদার পরিবারের সাথে সম্পর্কিত।
ববি হাজ্জাজ তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়, তার বড় বোন ন্যান্সি বিনতে মুসা এবং ছোট ভাই জুবি বিন মুসা। রাজনৈতিকভাবে গতিশীল ৭০ এবং ৮০-এর দশকে ঢাকায় তার বেড়ে ওঠা তাকে জাতির বিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সাথে পরিচিত করিয়েছিল, এবং নেতাদের সাথে তার পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তাকে জনসেবা এবং শাসনে আজীবন আগ্রহ জাগিয়েছিল।
তিনি ব্যারিস্টার রাশনা ইমামের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ, যিনি একজন বিশিষ্ট আইন পেশাজীবী, এবং তিনি দুটি কন্যার গর্বিত পিতা, ইনায়া ইমাম হাজ্জাজ এবং নিয়াসা ইমাম হাজ্জাজ।
ঢাকা-১৩ আসনে বাংলাদেশ বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ ঢাকায় ও-লেভেল ও এ-লেভেল শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যান এবং নব্বইয়ের দশকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনে অবস্থিত টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পত্রিকার জন্য নিয়মিত লেখালেখি করেন। এ সময় তিনি একাধিক অঙ্গরাজ্যের সিনেট ও গভর্নর নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর বাংলাদেশে ফিরে আসার আগে তিনি প্রায় এক বছর যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক খাতে কাজ করেন। দেশে ফিরে তিনি ব্যবসা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন এবং পাশাপাশি কয়েকটি জাতীয় ইংরেজি দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখতে শুরু করেন। এসব পত্রিকার মধ্যে দ্য ডেইলি স্টার উল্লেখযোগ্য।

ববি হাজ্জাজ ২০১২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেন মুহাম্মদ এরশাদ বিশেষ উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ। তাকে ২০১৩ সালে জাতীয় পার্টি এবং এরশাদের বিশেষ উপদেষ্টার ভূমিকার বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেছেন। এদিকে ২০১৪ সালের বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রাথমিক বিরোধী দল বিএনপি অংশ নেয়নি বলে সমালোচনা করার জন্য হাজ্জাজ অনেক গণমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। ববি হাজ্জাজ কে ২০১৩ সালের শেষদিকে ২০ ঘণ্টা ধরে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) কর্মকর্তারা আটক করেছিলেন। ঠিক ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগেই। হাজ্জাজের মতে, এরশাদ তার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদন করেছিলেন তবে তা কোনও স্পষ্ট কারণ ছাড়াই গৃহীত হয়েছিল।তিনি ২১ শে মার্চ ২০১৫ ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচনের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থিতায় লড়েছেন।
ববি হাজ্জাজ ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ভূমিকার জন্য একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং যুব আইকন হয়ে ওঠেন। তিনি একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সাধারণ নির্বাচনের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন এবং ফলস্বরূপ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্বারা আটক হন এবং পরে নির্বাসনে পাঠানো হয়। তবে, কয়েক মাসের মধ্যে তিনি ফিরে আসতে সক্ষম হন, তার দলের অবস্থান পরিবর্তন এবং পরবর্তীতে সরকারি বিরোধী দল হিসেবে সংসদে প্রবেশের কারণে।
২০১৫ সালের মার্চ মাসে, হাজ্জাজ এবং জাতীয় পার্টি আলাদা হয়ে যায়, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র নির্বাচনে তার স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ঘোষণার পর।
ববি হাজ্জাজ ২৮ এপ্রিল ২০১৭ সালে ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্ট (এনডিএম) নামে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে, এনডিএম দেশের অন্যতম বৃহৎ কর্মী ঘাঁটি হিসেবে গর্বিত। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় মূল্যবোধ, স্বাধীনতার চেতনা এবং জবাবদিহিমূলক গণতন্ত্রের চারটি অটল স্তম্ভের উপর নির্মিত।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সহিংসতা, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের অভিযোগ উঠে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে সহিষ্ণুতা ও অহিংস রাজনৈতিক চর্চার পক্ষে কথা বলেছেন রাজনীতিক ববি হাজ্জাজ। তিনি বিভিন্ন সময়ে জাতীয় টেলিভিশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির হিংস্র প্রবণতার সমালোচনা করেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, মতাদর্শগত পার্থক্য গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক অংশ হলেও সেই পার্থক্যকে কেন্দ্র করে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়া উচিত নীতিনির্ভর ও শান্তিপূর্ণ, যেখানে ভিন্নমতকে দমন নয় বরং শ্রদ্ধার সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
হলফনামার সম্পদের বিবরণ
নির্বাচনি হলফনামা অনুযায়ী, ববি হাজ্জাজ উল্লেখ করেন, তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯৩ হাজার ৮৭২ টাকা। ব্যাংকে তার নামে জমা আছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫৭৯ টাকা। শেয়ার থেকে বছরে আয় করেন ৮৯ হাজার ৮৯৫ টাকা এবং পেশা থেকে আয় ২৭ লাখ ৫৫ হাজার ৫২৯ টাকা। পাশাপাশি একটি যৌথ ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৯০ হাজার ৩৬৯ টাকা।
সম্পদের তালিকায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তার নিজের নামে রয়েছে ৩৫ ভরি সোনা। তবে স্ত্রীর নামে সোনার পরিমাণ আরও বেশি—১২০ ভরি। পাশাপাশি স্ত্রীর নামে ব্যাংক জমা রয়েছে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৪৫ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ আছে ১২ লাখ টাকা।
হলফনামায় দেখা যায়, ববি হাজ্জাজের নামে একটি মোটরগাড়ি থাকলেও তার মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া তার নামে কোনো দালান, অ্যাপার্টমেন্ট, কৃষিজমি কিংবা স্থায়ী আমানত নেই।
ধনকুবের পরিবারের সন্তান হওয়া সত্ত্বেও নিজের নামে উল্লেখযোগ্য স্থাবর সম্পদ না থাকার বিষয়টি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে ঢাকা-১৩ আসনে ববি হাজ্জাজের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা মো. মামুনুল হক ।