
প্রতিনিধি 17 January 2026 , 6:30:27 প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনটি গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর ও ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে বিস্তৃত।
১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্ম নেওয়া তারেক রহমান বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান। এর আগে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সময়ের একজন প্রত্যক্ষ সাক্ষী ও অংশগ্রহণকারী। তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি লেফট্যানেন্ট জেনারেল (অব.) জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের প্রধান। ১৯৭১ সালে যখন তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা দেন, তখন তারেক রহমান, তার মা; বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ভাই আরাফাত রহমান কোকোসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রেফতার হন। সে সময় তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য কারাবন্দী হওয়া সর্বকনিষ্ঠদের একজন ছিলেন।
ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে তিনি ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, হবস, লক, রুশো, ভলতেয়ার ও কার্ল মার্কসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক চিন্তাবিদের দর্শন অধ্যয়ন করেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের পাতানো নির্বাচনের প্রাক্কালে গৃহবন্দিত্ব এড়িয়ে তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনবিরোধী আন্দোলনে বাধা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ ঘটনার পর তাকে ও তার মাকে একাধিকবার গৃহবন্দী করে রাখে তৎকালীন স্বৈরাচারী সরকার।

দলীয় রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারে ১৯৯৩ সালে বগুড়ায় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সূচনা হয়। পরে অন্যান্য জেলা ইউনিটেও একই পদ্ধতি অনুসরণের জন্য উৎসাহ দেন তিনি। ২০০১ সালের নির্বাচনের আগে তিনি ঢাকায় একটি গবেষণা ও নীতিনির্ধারণমূলক অফিস প্রতিষ্ঠা করেন; যেখানে স্থানীয় সমস্যা, সুশাসন ও নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। তৃণমূল থেকে ব্যাপক সমর্থন থাকা সত্ত্বেও তিনি কোনো মন্ত্রিত্ব বা সংসদ সদস্যপদ গ্রহণ না করে দল সংগঠনে মনোনিবেশ করেন। এর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০২ সালে তাকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক করা হয়।
২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলন আয়োজন করেন এবং প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় কৃষক ভর্তুকি, বয়স্ক ভাতা, প্লাস্টিক ব্যাগবিরোধী আন্দোলন ও নারী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি জনগণের সামনে তুলে ধরেন। সম্মেলনে অংশ নেওয়া নিবন্ধিতদের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার চিঠির উত্তর দেন তিনি।
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। সে সময় তাকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য পর তাকে বিদেশে যেতে হয়। যুক্তরাজ্যে প্রবাস জীবনেও তিনি রাজনীতি করেছেন। সেখানকার বিএনপির নেতা-কর্মীসহ দেশের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সংগঠিত করা চলমান ছিল। ২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালে সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী হলে তাকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। এরপর থেকে তিনি আওয়ামী সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন।
১৯৯৪ সালে তিনি সাবেক নৌবাহিনী প্রধান প্রয়াত রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের কন্যা ডা. জোবায়দা রহমানকে বিয়ে করেন। ডা. জোবায়দা রহমান পেশায় একজন কার্ডিওলজিস্ট। তাদের একমাত্র কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা জারনাজ রহমান পেশায় একজন আইনজীবী এবং যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ।
হলফনামা অনুযায়ী, তারেক রহমানের পেশা রাজনীতি। তার আয়ের উৎস হিসেবে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র, বন্ড ও ব্যাংক আমানতের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বিস্তারিত বিবরণও হলফনামায় দেওয়া হয়েছে।
হলফনামার সম্পদের বিবরণ
নগদ/ব্যাংকের জমা ৩১ লাখ ৫৮ হাজার ৪২৮ টাকা; স্ত্রীর নামে জমা ৬৬ লাখ ৫৪ হাজার ৭৪৭ টাকা। শেয়ার ৫ লাখ টাকার, কোম্পানির শেয়ার ৪৫ লাখ টাকা এবং কোম্পানির ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার। নিজের সঞ্চয়পত্র আমানত ২০ হাজার টাকা, এফডিআর ৯০ লাখ ২৪ হাজার ৩০৭ টাকা; স্ত্রীর সঞ্চয়ী আমানত ২০ হাজার টাকা, এফডিআর ৩৫ লাখ টাকা। অর্জনকালীন স্বর্ণ দুই হাজার ৯৫০ টাকার (অধিগ্রহণকালে মূল্য) এবং এক লাখ ৭৯ হাজার ৫০০ টাকার আসবাব। স্থাবর সম্পদ রয়েছে অর্জনকালীন ৩ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ২.০১ একর ও ১.৪ শতাংশ জমি; নিজের নামে ২.৯ শতাংশ জমি দেখিয়েছেন। যৌথ মালিকানায় ১১১.২৫ শতাংশ জমি ও ৮০০ বর্গফুট দোতলা ভবন রয়েছে।
ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এস এম খালিদুজ্জমান।