
প্রতিনিধি 9 December 2025 , 11:21:06 প্রিন্ট সংস্করণ

বেগম রোকেয়া পদক পেলেন ৪ নারী। আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মনোনিতদের হাতে পদক তুলে দেন।
পদক পাওয়া চার নারী হলেন- কল্পনা আক্তার (নারী অধিকার আন্দোলনের ক্ষেত্রে অবদান), ড. নাবিলা ইদ্রিস (মানবাধিকার ক্ষেত্রে অবদান), ড. রুভানা রাকিব (নারী শিক্ষায় অবদান) এবং বাংলাদেশ নারী ফুটবলের পোস্টার গার্ল ঋতুপর্ণা চাকমা।
এদিকে, নারী শিক্ষার প্রসারে বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস রোকেয়া দিবস-২০২৫ উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় পিছিয়ে পড়া নারীদের উন্নয়নের প্রধান উপায় ছিল শিক্ষা। এই উপলব্ধি থেকেই বেগম রোকেয়া নারী শিক্ষার বিস্তারে সাহসিকতার সঙ্গে পথ দেখিয়েছেন। রোকেয়ার হাত ধরে যে নারী উন্নয়নের পথচলা শুরু হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতায় নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

রোকেয়ার আদর্শ অনুসরণ করে নারী অধিকার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় যেসব ব্যক্তিত্ব রোকেয়া পদক পেয়েছেন, তাদের অভিনন্দন জানান প্রধান উপদেষ্টা। একইসঙ্গে রোকেয়া দিবস-২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি।
দিবসটি ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম থেকে প্রকাশ করা হয়েছে বিশেষ ক্রোড়পত্র, পোস্টার ও বুকলেট।
১৮৮০ সালের এই দিনে রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন নারীজাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া। সে সময় মুসলিম সমাজে মেয়েদের শিক্ষালাভের সুযোগ ছিল না বললেই চলে। তবুও পারিবারিক অগোচরে বড় ভাইয়ের কাছ থেকে উর্দু, বাংলা, আরবি ও ফারসি শেখেন তিনি। তার শিক্ষাজীবন ও মূল্যবোধ গঠনে ভাই-বোনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
পরবর্তীতে বিহারের ভাগলপুরে সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হলে স্বামীর উৎসাহে তিনি নারী শিক্ষার বিস্তারে আরও মনোনিবেশ করেন। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সমাজে নারী-পুরুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার স্বপ্ন দেখেছিলেন বেগম রোকেয়া। তাঁর গল্প, উপন্যাস ও প্রবন্ধে সেই স্বপ্নের প্রতিফলন স্পষ্ট। নারী শিক্ষার প্রসার, তাদের ক্ষমতায়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বাংলায় শুরু করেছিলেন তিনিই-যা আজও সকল নারী আন্দোলনের প্রেরণা।