
প্রতিনিধি 30 November 2025 , 1:09:50 প্রিন্ট সংস্করণ

আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) থেকে আবারও চালু হচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজের সেন্টমার্টিন যাত্রা। সরকারি ১২ নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার শর্তে আগামী দুই মাস-৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত-পর্যটকরা এবার দ্বীপে রাত্রিযাপনের সুযোগ পাবেন।
গত ১ নভেম্বর সেন্টমার্টিন পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হলেও রাত্রিযাপনের অনুমতি না থাকায় কোনও জাহাজ ছাড়তে পারেনি। এবার কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে চলাচলের জন্য চারটি জাহাজকে অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার পর্যটক এসব জাহাজে চড়ে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছাবেন প্রবালদ্বীপে। টিকিট কিনতে হবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড অনুমোদিত অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে, যেখানে ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোড বাধ্যতামূলক। কিউআর কোডবিহীন টিকিট অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। প্রথম দিনের যাত্রার জন্য তিনটি জাহাজে ইতোমধ্যে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১২০০ টিকিট।

‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’-এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন,
“মৌসুমের প্রথম ট্রিপের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে কমপক্ষে চার মাস রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকলে পর্যটন ব্যবসায়ীরা আরও লাভবান হবেন।
দীর্ঘদিন পর পর্যটক আগমনের খবর পেয়ে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে দ্বীপবাসীর মাঝে। সেন্টমার্টিনের ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন,
“পর্যটন আমাদের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। সংকট থাকলেও অতিথি বরণে দ্বীপবাসী কোনো কমতি রাখবে না।”
এদিকে সেন্টমার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। নির্দেশনায় সৈকতে রাতের আলো বা শব্দ সৃষ্টি, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ-বিক্রি, সামুদ্রিক কাছিম বা প্রবালসহ জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সৈকতে মোটরসাইকেল, সি-বাইকসহ যেকোনো মোটরচালিত যানবাহন চালানো যাবে না। পাশাপাশি পলিথিন নিষিদ্ধ এবং একবার ব্যবহার্য প্লাস্টিকের সামগ্রী ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। পর্যটকদের ব্যক্তিগত পানির ফ্লাস্ক ব্যবহারের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বলেন,
“সেন্টমার্টিন জাতীয় সম্পদ। এর সুরক্ষায় সবাইকে সরকারের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।”