
প্রতিনিধি 31 December 2025 , 1:48:23 প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশ–সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে গেছে শোক-বিষাদ। জন্মস্থান ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়িতেও মানুষের স্মৃতির ভেতর ফিরে এসেছে খালেদা জিয়ার শৈশবের দিনগুলো। সেখানকার অনেকের কাছে বাংলাদেশের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী শুধু রাজনীতিক নন- যেন নিজেদের শহরেরই এক আপন মানুষ, যার চলে যাওয়ায় এলাকায় নেমেছে গভীর বিষাদ।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, মঙ্গলবার খালেদা জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার পর ঢাকা থেকে প্রায় ৪৩৪ কিলোমিটার দূরের জলপাইগুড়িতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। উত্তরবঙ্গের এই শহরে এখনও আছে খালেদা জিয়ার শুরুর জীবনের বহু স্মৃতি- তাই সেখানে অনেকেই মনে করছেন, যেন নিজেদেরই একজনকে হারালেন তারা।
১৯৪৫ সালে জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। শৈশবের কিছু বছর তিনি এখানেই কাটান এবং দু’টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। পরে তাদের পরিবার চলে যায় তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে, যা এখন বাংলাদেশ।
জলপাইগুড়ির বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘খালেদা জিয়ার বাবা মোহাম্মদ ইস্কান্দার আমার বাবার চা–বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ‘দাস অ্যান্ড কোং’-তে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। খালেদা জিয়ার জন্ম হয়েছিল শহরের নয়াবস্তি এলাকার একটি বাড়িতে। দেশভাগের পরও তাদের পরিবার কিছুদিন এখানে ছিলেন। পরে ১৯৫০–এর দশকে তারা পূর্ব পাকিস্তানে চলে যায়।’

জলপাইগুড়িভিত্তিক ইতিহাসবিদ উমেশ শর্মা জানান, খালেদা জিয়ার পড়াশোনার শুরু হয়েছিল এখানেই। তিনি জানান, ‘নয়াবস্তির যোগমায়া প্রাইমারি স্কুলে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়েন। এরপর সমাজপাড়ার সুনীতিবালা সদর গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। তখনই তাদের বেশিরভাগ আত্মীয় পূর্ব পাকিস্তানে চলে যান এবং পরে তার বাবাও সেখানে পাড়ি জমান।’
উমেশ শর্মা আরও জানান, পরিবারটি সম্পত্তি বিনিময়ের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পূর্ব পাকিস্তানে চলে যায়। তার ভাষায়, ‘অমরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সঙ্গে সম্পত্তি বিনিময় করে পূর্ব পাকিস্তানে যান ইস্কান্দার। এখনও নয়াবস্তির সেই বাড়িতে চক্রবর্তীর পরিবারই থাকে।’
খালেদা জিয়ার পরিবারের কথা যারা মনে রেখেছেন, তাদের কাছে এখনও টিকে আছে আবেগের টান। নীলাঞ্জন দাশগুপ্ত বলেন, ‘প্রাথমিক স্কুলজীবনে সিয়ন মণ্ডল ছিল তার (খালেদা জিয়ার) খুব কাছের বন্ধু। পরে সিয়নদা শিক্ষক হন শিশুনিকেতন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খবর শুনে সিয়নদার যে আনন্দ হয়েছিল, সেটা আজও মনে পড়ে। তার (খালেদা জিয়ার) মৃত্যু আমাদের খুব কষ্ট দিয়েছে।’
আরও পড়ুন: দিল্লিতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখের ওপর যে জবাব দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া
পড়শিরাও বলছেন, বছরের পর বছর পরও সেই সম্পর্ক টিকে ছিল। জলপাইগুড়ির বাসিন্দা সুহৃদ মণ্ডল বলেন, ‘খালেদা জিয়ার আত্মীয়রা জন্মস্থান দেখতে প্রায়ই এখানে আসতেন। সবাই আমার বাড়িতেই থাকতেন। তার এক ভাতিজি কয়েক মাস আগেই এসেছিলেন। আমরা প্রায়ই বলতাম- যদি দেশভাগ না হতো! যদিও তাকে কখনো সামনে দেখিনি, তবু মনে হয় খুব কাছের একজনকে হারালাম। তার মৃত্যুতে বাংলাদেশের পাশাপাশি এখানেও শোক নেমেছে।’
সুনীতিবালা সদর গার্লস স্কুলের প্রাথমিক শাখার প্রধান শিক্ষক অরূপ দে বলেন, ‘জেনেছি, খালেদা জিয়া এখানকার ছাত্রী ছিলেন। ক্লাস শুরু হলে আমরা একটি স্মরণসভা করার পরিকল্পনা করছি।’