
প্রতিনিধি 23 December 2025 , 3:30:36 প্রিন্ট সংস্করণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আইন-বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, এই সংকটময় সময়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন এবং সবার প্রতি সমানভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়ে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন সিইসি। সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে চার নির্বাচন কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, “দেশটা আমার-আপনার সকলের দেশ। এই দেশটাকে সঠিকভাবে, সঠিক অবস্থায় রেখে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। আপনারা ভালো থাকলে, আপনারা ভালো কাজ করলে আমি ভালো থাকি। আর আপনারা যদি ভালোভাবে কাজ না করেন, তাহলে আমার ঘুম হারাম।”

ভোট আয়োজনের দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একটা জাতীয় দায়িত্ব এসে পড়েছে। শাসনতান্ত্রিক দায়িত্ব, কনস্টিটিউশনাল রেসপন্সিবিলিটি এসে পড়েছে। আমরা একটা যুগের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। এই ক্রান্তিলগ্নে যদি আমরা আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা জবাব দিতে পারবো না।”
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মাঠ প্রশাসনকে আইন-কানুনের আলোকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, “আমি আশা করব, আমরা সবাই মিলে যে গুরু দায়িত্ব আমাদের কাঁধে এসে পড়েছে, তা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করব। এখানে কোনো ধরনের বিচ্যুতি হবে না। আপনারা সঠিক কাজটি সঠিক সময়ে, কার্যকরভাবে করবেন।”
আইনের শাসন বাস্তবে দেখিয়ে দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, “আমি আগেও বলেছি-আইনের শাসন কাকে বলে আমরা দেখিয়ে দিতে চাই। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, আমরা তা থেকে মুক্তি চাই। আমরা প্রমাণ করতে চাই যে সঠিক ও সুন্দর নির্বাচন করা সম্ভব, আর তা একমাত্র আইনের শাসনের মাধ্যমেই সম্ভব।”
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে সিইসি আরও বলেন, “আপনারা যারা মাঠে আছেন, তারা আইনের শাসন নিশ্চিত করবেন। আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করবেন।”
তিনি বলেন, “সারা বাংলাদেশের প্রশাসন এখানে উপস্থিত। আপনারা যখন বুক ফুলিয়ে সাহসী ভূমিকা রাখবেন, তখন আমিও সাহসী হব। আপনার প্রতিটি সঠিক কাজ আমাকে সাহস দেবে। আপনারা যখনই আইন প্রতিষ্ঠার জন্য সাহসী পদক্ষেপ নেবেন, বিধি-বিধানের আলোকে কাজ করবেন-ইনশাআল্লাহ নির্বাচন কমিশন আপনাদের পাশেই থাকবে।”