
প্রতিনিধি 9 April 2026 , 12:34:52 প্রিন্ট সংস্করণ

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রায় ছয় সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আবারও ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) থেকে আল-আকসা মসজিদ ও চার্চ অব দ্য হোলি সেপালকার খুলে দেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, জেরুজালেমের পুরাতন শহরে অবস্থিত মসজিদটি ভোরবেলা পুনরায় খুলে দেওয়া হয়। ফলে শত শত ফিলিস্তিনি মুসলিম আল-হারাম আল-শরিফ চত্বরে প্রবেশ করেন। ফজরের আজানের সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে দেওয়া হলে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি সেখানে ভিড় জমান এবং মসজিদের প্রাঙ্গণে অনেককে কাঁদতে ও শুকরিয়া আদায়ে সিজদা করতে দেখা গেছে। পরে শত শত মুসলমান একসঙ্গে ফজরের নামাজ আদায় করেন।

প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, হোম ফ্রন্ড কমান্ডের হালনাগাদ নির্দেশিকা অনুসর করে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ইবাদকারী ও দর্শনার্থীদের জন্য পবিত্র এই স্থানগুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেরুজালেমের পুরোনো শহর ও দর্শনীয় স্থানগুলোর দিকে যাওয়ার রাস্তায় শত শত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগ বলেছে, আল-আকসা মসজিদ ফজরের নামাজের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। সকলের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে, ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির গত ৬ এপ্রিল বন্ধ থাকা অবস্থায় মসজিদ কম্পাউন্ডটিতে অভিযান চালান।
গত রমজান মাসে আল-আকসা বন্ধের পর ঈদুল ফিতরের নামাজও সেখানে আদায় করতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া টানা পাঁচ জুমার নামাজ রাস্তায় আদায় করতে হয়েছে ফিলিস্তিনিদের। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল জোটের চলমান সংঘাতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে উভয় স্থানে জনসমাগম নিষিদ্ধ করে তেলআবিব কর্তৃপক্ষ।
১৯৬৭ সালে জেরুজালেম শহর দখলের পর থেকে এটিই ছিল প্রথম দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ। ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা ও ধর্মীয় নেতারা এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে এই নিষেধাজ্ঞা মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন, মুসলিম ও খ্রিস্টান ধর্মালম্বীদের লক্ষ্য করে চালানো উসকানিমূলক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।