
প্রতিনিধি 16 February 2026 , 11:45:44 প্রিন্ট সংস্করণ

লেবাননের সিরিয়া সীমান্তে একটি গাড়িতে বোমা হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার ভোরে এই বিমান হামলা চালানো হয়।
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে একজন সিরিয়ার নাগরিক ছিলেন। তার নাম খালেদ মোহাম্মদ আল-আহমাদ।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে দাবি করেছে, তারা লেবাননে ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) সদস্যদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে তারা তাদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি।
ইসরায়েলি বাহিনী জানায়, লেবাননের মাজদাল আনজার এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। এদিকে এ বিষয়ে পিআইজে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
পিআইজে হলো দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী, যারা গাজায় হামাসের সঙ্গে মিলিতভাবে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে লড়াই করছে। তারা লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহরও মিত্র।

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া সেই চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, শত্রুতা বন্ধে সম্মত হওয়ার পর থেকে এক বছরে ইসরায়েলি বাহিনী ১০ হাজারের বেশি বিমান ও স্থল হামলা চালিয়েছে।
গত নভেম্বরে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানায়, যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১০৮ জন বেসামরিক হতাহতের ঘটনা তারা যাচাই করেছে, যাদের মধ্যে অন্তত ২১ জন নারী ও ১৬ জন শিশু রয়েছে। একই সময়ে অন্তত ১১ জন লেবানিজ বেসামরিক নাগরিককে ইসরায়েলি বাহিনী অপহরণ করেছে বলেও জানানো হয়।
লেবানন গত মাসে জাতিসংঘে একটি অভিযোগ দায়ের করে ইসরায়েলের বারবার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরে এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে ইসরায়েলকে হামলা বন্ধ ও পুরোপুরি লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারে চাপ দেওয়ার আহ্বান জানায়।
অভিযোগে বলা হয়, শুধু ২০২৫ সালের শেষ তিন মাসেই ইসরায়েল অন্তত দুই হাজার ৩৬ বার লেবাননের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। এ ছাড়া ইসরায়েল এখনো লেবাননের পাঁচটি এলাকা দখল করে রেখেছে, যার ফলে সীমান্তবর্তী ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্রামগুলোর পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের বাড়িতে ফিরতে পারছে না।