• লাইফস্টাইল

    অগোচরে চলে গেল সুন্দরবন দিবস

      প্রতিনিধি 15 February 2026 , 2:33:21 প্রিন্ট সংস্করণ

    বিজ্ঞাপন
    Main Banner Ads For Captains TV

    ভালোবাসা দিবসের আবেগ-উচ্ছ্বাসের মাঝেই নীরবে পেরিয়ে গেল ১৪ ফেব্রুয়ারি-সুন্দরবন দিবস। জাতীয় নানা আয়োজন ও ব্যস্ততার ভিড়ে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন–কে ঘিরে দিনটি এবারও অনেকটাই অগোচরে রয়ে গেল।

    অথচ এই সুন্দরবনই মায়ের মতো আগলে রাখে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সিডরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় বুক পেতে দাঁড়িয়ে উপকূলকে রক্ষা করে এ বনভূমি। উপকূলবাসীর জীবিকা, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি, পরিবেশের ভারসাম্য এবং বিশুদ্ধ বাতাসের প্রধান উৎস হিসেবে সুন্দরবনের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

    ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই বন জীববৈচিত্র্যের এক অনন্য ভান্ডার। এখানে রয়েছে প্রায় ৩৩০ প্রজাতির উদ্ভিদ, ২৭০ প্রজাতির পাখি, প্রায় ৪০০ প্রজাতির মাছ এবং অসংখ্য বন্যপ্রাণী। বিশ্বখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার–এর অন্যতম প্রধান আবাসস্থলও এই বন।

    সুন্দরবন আজ নানামুখী সংকটে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও লবণাক্ততার প্রভাবে কমে যাচ্ছে সুন্দরী গাছ। বনভূমির ভেতর দিয়ে অবাধ নৌযান চলাচল, গাছ কাটা, বন্যপ্রাণী শিকার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ক্রমেই হুমকির মুখে ফেলছে এ প্রাকৃতিক বিস্ময়কে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বনভূমির বড় অংশ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

    বিজ্ঞাপন

    তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জলবায়ু পরিবর্তনই একমাত্র হুমকি নয়-সুন্দরবনে দীর্ঘদিন ধরেই বনদস্যুতা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন–এ অতীতে বিভিন্ন সশস্ত্র বনদস্যু চক্র জেলে, মৌয়াল ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, মাছ ও মধু লুট, এমনকি অপহরণের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বিচ্ছিন্নভাবে দস্যুতা ও চোরাকারবারের অভিযোগ এখনও শোনা যায়। বনভূমির ভেতরে অবৈধ কাঠ কাটা, বন্যপ্রাণী শিকার এবং নদীপথে অনিয়ন্ত্রিত নৌ চলাচল-এসব কর্মকাণ্ডের পেছনেও প্রভাবশালী দস্যুচক্রের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

    পরিবেশ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সুন্দরবনে টেকসই শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নিয়মিত টহল, আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর বিকল্প কর্মসংস্থান এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। বন ও বনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে।

    পরিবেশবিদদের মতে, সুন্দরবন রক্ষায় প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতা। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, বন ও বন্যপ্রাণীর প্রতি দায়বদ্ধতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগই পারে এই বনকে টিকিয়ে রাখতে।

    ভালোবাসা দিবসে যখন মানুষ প্রিয়জনকে ভালোবাসার বার্তা দিয়েছে, তখন একই দিনে পালিত সুন্দরবন দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়-প্রকৃতিকে ভালোবাসা ছাড়া টিকে থাকা সম্ভব নয়। সুন্দরবন বাঁচলে বাঁচবে উপকূল, বাঁচবে দেশ। তাই দিবসটি অগোচরে চলে গেলেও, সুন্দরবন রক্ষার অঙ্গীকার যেন অগোচরে না হারিয়ে যায়।

    আরও খবর

    Sponsered content

    বিজ্ঞাপন
    সর্বশেষ সংবাদ
    2:33 PM অগোচরে চলে গেল সুন্দরবন দিবস 2:03 PM সোমবার বিকালে বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেইটে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল 1:28 PM সাময়িক নিষেধাজ্ঞা স্মৃতিসৌধে সর্বসাধারণের প্রবেশ 12:56 PM এবার জ্যাকুলিনকে হেলিকপ্টার দিলেন প্রেমিক 12:12 PM ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে কে? 11:51 AM ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ গঠনের ঘোষণা আসিফ মাহমুদের 11:24 AM নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৩২ 10:32 AM শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেন যেসব দেশের সরকার প্রধানরা 9:27 PM নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব 9:18 PM প্রহসনের নির্বাচন, তবে আলোচনায় বসতে আপত্তি নেই- সজীব ওয়াজেদ জয়