
প্রতিনিধি 18 January 2026 , 7:31:52 প্রিন্ট সংস্করণ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৭ আসন থেকে নির্বাচন করবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য (এমপি) ডা. এস.এম. খালিদুজ্জামান। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫, ১৮, ১৯ ও ২০ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনটি গুলশান, বনানী, নিকেতন, মহাখালী, বারিধারা, শাহজাদপুর ও ঢাকা সেনানিবাসের একাংশ নিয়ে বিস্তৃত।
ডা. এস.এম. খালিদুজ্জামান পেশায় চিকিৎসক, ব্যবসায়িক ও রাজনীতিবিদ। তিনি ১৯৮৪ সালের ১ জানুয়ারী খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার কাশিমনগর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। স.ম. আব্দুর রশিদ ও লতিফা খানমের দুই পুত্র ও এক কন্যার মধ্যে তিনি সর্বকনিষ্ঠ। সফল বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ ডা. খালিদুজ্জামান বাংলাদেশ ফার্টিলিটি হাসপাতালের বর্তমান চেয়ারম্যান, যে প্রতিষ্ঠানটি তিনি ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠা করেন। তার স্ত্রী ডা. উম্মে হাবিবা শারমিন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে বর্তমানে একই হাসপাতালে কর্মরত। দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন কন্যা (মুসাররত বিনতে খালিদ, মুনিবা মুসতাবশিরা, মুনজেরিন মারিয়াম) ও দুই পুত্র (স.ম. আফ্রাহাম মুসান্না, স.ম.মুয়াজ বিন খালিদ) রয়েছে।
ডা. এস এম খালিদুজ্জামান প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে জেলা পর্যায়ে তৃতীয় স্থান এবং এসএসসিতে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এইচএসসিতে উপজেলায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে খুলনা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর তিনি ভারত থেকে ক্লিনিক্যাল এমব্রায়োলজি এবং প্রি-ইমপ্লান্টেশন জেনেটিকস বিষয়ে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি তার নিজের প্রতিষ্ঠান ছাড়াও রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নারীদের বন্ধ্যাত্ব, গাইনি সমস্যা, আইভিএফ, ওভারিতে সমস্যাসহ পুরুষ বন্ধ্যাত্ব ব্যাধির চিকিৎসা পরামর্শ দেন। তিনিই বাংলাদেশে প্রথম পুরুষ বন্ধ্যাত্বের একটি যুগপোযুগি চিকিৎসা পদ্ধতি (ব্যথামুক্তভাবে পিইএসএ, টিইএসএ) চালু করেন। গরীব ও অসহায়দের জন্য স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবাও দিয়ে থাকেন।

খুলনা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ডা. এস.এম. খালিদুজ্জামান রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ইন্টার্ন ডক্টরস এসোসিয়েশনের সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তর মেডিক্যাল থানা আমীরের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়াও ডাক্তারদের নিয়ে গঠিত জাতীয় সংগঠন এনডিএফ-এর ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।
সমাজসেবায় ডা. এস.এম. খালিদুজ্জামান অবদান রাখতে বাবা-মায়ের নামের অংশ নিয়ে ২০১৩ সালে লতিফা রশিদ ফাউন্ডেশন গঠন করেন। এই ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন ডা. খালিদুজ্জামান।
হলফনামার সম্পদের বিবরণ
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলফনামায় ডা. এস এম খালিদুজ্জমান জানিয়েছেন, তিনি একজন ব্যবসায়ী ও চিকিৎসক। তার ব্যবসা থেকে বছরে আয় হয় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। তিনি বছরে শেয়ার, সঞ্চপত্র বা ব্যাংক আমানত থেকে থেকে আয় করেন ১১ লাখ ৬৮ হাজার ৫২৭ টাকা।
হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে তার হাতে নগদ ৬৮ লাখ ২৬ হাজার ১২০ টাকা এবং স্ত্রীর হাতে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৫১০ টাকা রয়েছে। ব্যাংকে তার নিজের নামে ৩৩ লাখ ৭৯ হাজার ৩৬৩ টাকা এবং স্ত্রী একাউন্টে ৫ লাখ ৪৪ হাজার ৭০২ টাকা রয়েছে। ডা. খালিদুজ্জমানের নিজের নামে ২ কোটি ২৫ লাখ ৫৯৫ টাকা এবং তার স্ত্রী নামে ৯০ লাখ টাকার বন্ড, ঋণপত্র ও কোম্পানির শেয়ার রয়েছে। এছাড়া তার নিজের নামে সঞ্চয়পত্র রয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৯ হাজার ৬১৭ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৩৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা রয়েছে।
খুলনার পাইকগাছায় ডা. খালিদুজ্জমানের নামে কৃষি জমি রয়েছে ১২৮.৮৯ শতাংশ। ঢাকায় নিজের নামে ২ কোটি ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা সমমূল্যের এবং স্ত্রীর নামে ৯৭ লাখ ৩৯ হাজার ৫২০ টাকা সমমূল্যের বাড়ি/এপার্টমেন্ট রয়েছে। এছাড়া তার নিজের ২০ ভরি এবং স্ত্রী রয়েছে ৪০ ভরি স্বর্ণ। খালিদুজ্জমানের নিজের নামে গাড়ি রয়েছে ১৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা সমমূল্যের এবং স্ত্রীর রয়েছে ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের গাড়ি।
ঢাকা-১৭ আসনে ডা. এস এম খালিদুজ্জমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান।