
প্রতিনিধি 30 November 2025 , 3:12:11 প্রিন্ট সংস্করণ

মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় ৩৮ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে (৪০) উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ। রোববার (৩০ নভেম্বর) সকালে সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র বিগ্রেডের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার অন্য দুইজন হলেন নয়ন (৩০) ও রাব্বি (২৮)।
সেনাসূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুরের শের-ই-বাংলা আর্মি ক্যাম্প থেকে শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় তথ্য আসে যে, শীর্ষ সন্ত্রাসী বুনিয়া সোহেলকে জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় গণপিটুনি দিচ্ছে। খবর পেয়ে তিনটি সেনা টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ ঘটনার পরপরই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল ও শের-ই-বাংলা আর্মি ক্যাম্পের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায় সোহেলের দুই সহযোগী নয়ন ও রাব্বিকে। সেনা টহল দল তাদের শনাক্ত করে আটক করে। আটক দুইজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ১টায় ছয়টি সেনা টহল দল মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন জায়গায় পৃথক অভিযান চালিয়ে ২টি ৭ দশমিব ৬৫ মিমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার হয়।
এ বিষয়ে ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘বুনিয়া সোহেলের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় প্রায় ৩৮ থেকে ৪০টির মতো মামলা রয়েছে। গত এক বছরে মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় বুনিয়া সোহেলের গ্যাং দ্বারা প্রায় ৭ থেকে ৮টি হত্যার ঘটনা ঘটে। আজ প্রতিপক্ষ গ্রুপের হাতে বুনিয়া সোহেলের আহত হওয়ার ঘটনার পর তার দুইজন সহযোগী আগ্নেয়াস্ত্র জোগাড় করে এর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। আমাদের টহল দল তাদেরকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযান শেষে হাসপাতালে পুলিশ প্রহরায় থাকা অবস্থায় বুনিয়া সোহেলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে আটক দুই সহযোগী ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র মোহাম্মদপুর থানায় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুনিয়া সোহেল ও তার সহযোগিদের অস্ত্রসহ গ্রেপ্তরের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।